দেশে কোনো পার্লামেন্ট নাই : ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'যখনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসে তখনি মানুষ অস্থির হয়ে যায়, অশান্তিতে থাকে। তখন এই হানাহানি, এই মরামারি সব আসতে থাকে। এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য।' আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তভ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, '৫০ বছর হয়ে গেছে দেশ স্বাধীন হওয়ার; এখনো আমরা শান্তিপূর্ণ একটি পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যে নির্বাচন করব তার কোনো ব্যবস্থা করতে পারি নাই এই আওয়ামী লীগের জন্য। আওয়ামী লীগ একটা দুঃশাসন, আওয়ামী লীগ একটা দুঃস্বপ্ন। ১৯৭৪ সালে আসছিল দুর্ভিক্ষ, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল। এগুলো বাস্তব সত্য কথা।

তিনি বলেন, 'আপনাদের হরিপুরে আমার কোনো ভাই বর্ডার ক্রস করতে গিয়ে যদি বিএসএফের গুলি খেয়ে মারা যায় তাহলে কে কথা বলবে ? আওয়ামী লীগের একটা কথা বলার সাহস নাই গুলি করে মারার অধিকার তোমাদেরকে কে দিয়েছে ? তুমি মানুষকে গুলি করে মারতে পারো না, কেউ অন্যায় করলে তার বিচার হবে, সেই বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে।'

এদিন ফখরুল বলেন, 'ভোটের সময় শেখ হাসিনা কী বলেছিল আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই। তিনি বলেছিলেন, "১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াবে, কিন্তু খাওয়াতে পারেনি। বলেছিল সার ফ্রি দিবে, কোনো পয়সা লাগবে না" তাও দিতে পারে নাই। এই ইউরিয়া সারের দাম আজকে বাড়ছে শুনে আসলাম। আপনারা কৃষক মানুষ আপনারা জানেন তো। চাল, তেল, লবণ, চিনিসহ এমন কোনো জিনিস নাই যার দাম বাড়েনি। বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু কৃষকদের ফসলের দাম বাড়েনি।

শ্রমিকদের আয় কমে গেছে দাবি করে ফখরুল বলেন, 'রিক্সা, ভ্যান শ্রমিক তাদের আয় বাড়েনি। উল্টো তাদের আয় কমেছে। এই দুই বছরে শ্রমিকদের আয় অনেক কমেছে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম এই যে কম আয়ের মানুষরা যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের প্রত্যেককে তিনমাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হোক। হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগ উড়াল সেতু, মেগা প্রজেক্ট, মেট্রোরেল বানাও আর আমার গরীব মানুষরা না খেয়ে থাকবে তাদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা দিতে পারবে না? দিছিল বলে আড়াই হাজার টাকা, কিন্তু এই টাকা সব আওয়ামী লীগের লোকেরাই খেয়ে ফেলেছে।'

বিএনপি মহসাচিব বলেন, 'এখন খাওয়ার একটা কম্পিটিশন চলছে, লুটের কম্পিটিশন, খালি লুটো, যা পাও তাই লুট করে নিয়ে যাও। এই যে আমরা দেখলাম আসার সময় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়েছে, এগুলো পত্রপত্রিকায় আসছে তারা অর্ধেকের বেশি টাকা খেয়ে ফেলেছে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যারা এটা তৈরি করেছে।'

ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না এই প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, 'পুলিশের চাকরি পেতে হলে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এমনও চাকরি আছে যেগুলো ৪০ লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। কি অবস্থা দেখেন কারও কোনো জবাবদিহিতা নাই। কারণ এই দেশেতো কোনো পার্লামেন্ট নাই।'

তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারকে যদি আমরা সরাতে না পারি তাহলে আমাদের ভবিষ্যত কোনো দিন ভালো হবে না। আমাদের সন্তানেরা একটা সুন্দর দেশ পাবে না। আমরা আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে একটা ভালো ভবিষ্যত দিতে পারব না। বহু ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখেছে কিন্তু তাদের চাকরি নাই। আর যদি তাদের পরিবারে বিএনপির গন্ধ থাকে তাহলে তো তার আর চাকরি হবে না।'

যুবকদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, 'আমরা কিন্তু যুদ্ধ করেছি, দেশটাকে স্বাধীন করেছি, লড়াই করেছি এবং দেশটাকে রক্ষা করেছি। এখন তোমাদের উপর দায়িত্ব এসেছে দেশটাকে মুক্ত করা। আওয়ামী লীগ যারা দেশকে গ্রাস করে ফেলছে তাদের হাত থেকে দেশটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাদের। তোমারদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য