রামু রশিদনগরে দুই নারীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

রামু রশিদনগরে দুই নারীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

রামু রশিদনগরে দুই নারীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের পূর্ব হরিতলা গ্রামের প্রবাসী রোহিঙ্গা বজল আহমদ এর স্ত্রী শাহিনারা বেগম এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ পুরো গ্রামবাসী। শাহিনারা'র পরকীয়ায় জড়িয়ে ভেঙ্গেছে অনেকের সুখের সংসার। অনেকের পরিবারে জ্বলছে দুঃখের দাবানল। এই পরকীয়াবাজ নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে অনেক অবিবাহিত ছেলেও নষ্ট করছে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন। শাহিনারা বেগম এর ঘরে নিত্যনতুন পরপুরুষের আনাগোনা, রাত যতই গভীর হয় বৃদ্ধি পেতে থাকে খদ্দের প্রবেশ। প্রতিদিন রাত হলে বসে মাদকের আসর, আর এইসব মাদক যোগাই পাশের এক রোহিঙ্গা নারী মাদক কারবারী হোসন বানু। ইয়াবা, বাংলা মদ, গাঁজাসহ সবকিছু মওজুদ থাকে এই রোহিঙ্গা নারীর কাছে। 

শাহিনারা'র পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে একই এলাকার মৃত আব্দুল আমিন এর মেয়ে পারভিন আক্তার এর সংসারের সুখের প্রদীপ প্রায় নিভে যাওয়ার শেষ প্রান্তে।পারভিন এর মাদকাসক্ত স্বামী আব্দুল হালেক প্রতিবেশী প্রবাসী বজল আহমদ এর স্ত্রী'র সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে প্রায় সময় তার স্ত্রী পারভিনকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু করে আসছে, প্রায়সময় মাদকাসক্ত হয়ে গভীররাতে ঘরে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ মারধর করে থাকে। এমনও দিন আছে পুরো রাত সে প্রবাসীর স্ত্রী শাহিনারা'র সাথে অবৈধ মেলামেশা করে সারারাত তার ঘরে রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফিরে। আব্দুল হালেক এর স্ত্রী পারভিন এহেন কাজে বাঁধা দিলে তার উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন,এমন কি পারভিন এর শশুর বাড়ির লোকজন ওই পরকীয়াবাজ নারী শাহিনারা'র সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পারভিন সহ তার পরিবারের লোকদের উপর নানান প্রকার ষড়যন্ত্র সহ শুরু করে মামলা হামলা।  

জানা যায়,গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে স্হানীয়রা পারভিন এর স্বামী আব্দুল হালেক কে শাহিনারা বেগম এর ঘরের ভিতর থেকে হাতেনাতে ধরে ফেলে,পরে স্হানীয়রা রামু থানা পুলিশকে খবর দিলে রামু থানার (তদন্ত ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী'র নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে ঘটনা পর্যালোচনা করে শাহিনারা বেগমকে শেষ বারের মতো সতর্ক করে আব্দুল হালেক কে থানায় নিয়ে এসে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩ মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।  

এঘটনার জেরধরে পারভিন এর শশুর বাড়ির লোকজন ও শাহিনারা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন পারভিন এর বাপের বাড়ির সামনে এসে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।একপর্যায়ে শাহিনারা সহ পারভিন এর শশুর বাড়ির লোকজন তার ভাবি শাকেরা,তার বিধবা বৃদ্ধা মা ও তার উপর হামলা করে।হামলায় দুপক্ষের লোকজন আহত হয়েছিল। কিন্তু শাহিনারা বেগম এখানে ক্ষান্ত হয়নি, শুরু করে দেয় ষড়যন্ত্র, তারই অংশ হিসেবে শাহিনারা পারভিন এর পরিবারের লোকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মিথ্যে তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন ও থানায় অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।বর্তমানে পারভিন তার এক ছেলে নিয়ে বিধবা মায়ের ঘরে অনাহারে দিনাতিপাত করছে।   

এদিকে পারভিন এর মতো শাহিনারা বেগম এর নির্যাতনে নির্যাতিত একাধিক পরিবারের লোকজন তাদের উপর ঘটে যাওয়া দূর্দশার কথা বর্ণনা করে জানান,শাহিনারা বিবাহিত ও অবিবাহিত লোকদের তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে পূর্ব হরিতলা গ্রামের অনেক গৃহবধূর সংসার ধ্বংস করেছে আর অবিবাহিত ছেলেদের করেছে মাদকাসক্ত ও দেউলিয়া।তার নগ্ন ছোবলে এই গ্রামের প্রায় পরিবারের সংসার তছনছ।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, ১০ থেকে ১২ বছর আগে মায়ানমার থেকে পুরো পরিবার নিয়ে পালিয়ে পূর্ব হরিতলায় এসে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বনবিভাগের জায়গা ক্রয় করে বনভূমিতে বসবাস শুরু করে মৃত আমির হামজা ও তার স্ত্রী হোসন বানু, তাদের পরিবারে রয়েছে দুই ছেলে আব্দুল মোনাফ, আব্দুল হালেক ও দুই মেয়ে আনোয়ারা, সমিরা।তারা পুরো পরিবার রোহিঙ্গা, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে তাদের আত্নীয়সজন থাকায় জড়িয়ে পড়ে মাদক কারবারে, শুরু হয় পুরোদমে ইয়াবা ও বাংলা মদের ব্যবসা, স্থানীয় অনেকে বলেন তারা এদেশের নাগরিক না হয়েও মাদকের টাকার গরমে স্থানীয় কাউকে পাত্তা দেয়না, এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি, কেউ মুখ খুললে তার উপর নেমে আসে ভয়াবহ বিপদ,আবার অনেকে তাদের ভয়ে ঘরছাড়া হয়েছে। এসব অন্যায় অত্যাচারের বিচারতো তারা পয়ইনা, উল্টো তাদের উপর মারধর সহ নানান ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।শাহিনারা ও হোসন বানু প্রভাবশালী হওয়ায় নির্যাতিতরা অত্যাচারের কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে জানান।  

ভুক্তভোগী ও স্হানীয়রা এই দুই অশুভ নারীর অত্যাচার থেকে তাদের সুখের  সংসার ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সুপার ও রামু থানা পুলিশের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য