গৃহবধূকে ধর্ষন; ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

গৃহবধূকে ধর্ষন; ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

গৃহবধূকে ধর্ষন; ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মাদারীপুরের ডাসারে (৩৪) বছরের এক গৃহবধূকে ধর্ষনের পর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই গৃহবধূ। আজ রোববার দুপুরে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ওই গৃহবধূকে প্রথমে জোরকরে ধর্ষন করা হয়েছে বলে ভূক্তভোগী যানায়। এদিকে এ ঘটনা সালিস মিমাংসার মাধ্যমে ধাঁমাচাঁপা দেয়ার জন্য উঠেপরে লেগেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।  

সংবাদ সম্মেলন সুত্রে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বালিগ্রাম গ্রামের অসহায় কৃষকের মেয়ে ওই ধর্ষিত গৃহবধূর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের এক রং মিস্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে হয়। এ সুবাদে প্রায় দেড় বছরপূর্বে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মৃধার সাথে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দারিদ্রতার সুযোগে গত একবছর পূর্বে ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ওই গৃহবধূকে ইউপি সদস্য গিয়াস কালকিনি পৌর এলাকার মজিদবাড়ি (ভুরঘাটা) তার অফিসে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মৃধা তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে বলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী আরও বলেন, ধর্ষনের পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া করে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে (ভুক্তভোগী) বিভিন্নস্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করে ইউপি সদস্য গিয়াস। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাঁপপ্রয়োগ করা হলে তার (ভুক্তভোগী) দিনমজুর স্বামীকে ইউপি সদস্য ডিভোর্স দিতে বলেন। পরে গিয়াস উদ্দিনের পরামর্শে কালকিনির বাদশা মিয়া নামের এক নিকাহ রেজিষ্টারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারী তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী বলেন, প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে পূনরায় গিয়াস উদ্দিন ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার (ভুক্তভোগী) সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে (ভূক্তভোগী)কে ডেকে নিয়ে ইউপি সদস্যের পালিত কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ষ্টাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে গিয়াস ও তার লোকজনে সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন। এতে করে ওই গৃহবধূ এখন প্রান নাশের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী বলেন, ইউপি সদস্য গিয়াসের প্রতারনার কারনে স্বামী-সন্তানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি, এখন গিয়াস উদ্দিনও অস্বীকার করে আমাকে প্রণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের কাছে স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে আমি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মৃধা বলেন,আমাকে সমাজে হ্যায় করার জন্য একটি কু-চক্রি মহলের প্ররোচনায় এটা করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা যানাই।

নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক একজন সালিস বলেন, আমার কাছে গিয়াস মেম্বর ৫০হাজার টাকা দিয়েছিল ওই গৃহবধুকে দেয়ার জন্য। তাই আমরা কয়েকজনে তাকে ডেকে ছিলাম। সে টাকা নেয়নি। এবং তাকে ষ্টাম্পে সই দিতে বললে তাও সে দেয়নি।

 

 

পাঠকের মন্তব্য