ঘেরের আইলে শসা চাষ : পাল্টে দিয়েছে নিশানবাড়িয়ার চিত্র

ঘেরের আইলে শসা চাষ : পাল্টে দিয়েছে নিশানবাড়িয়ার চিত্র

ঘেরের আইলে শসা চাষ : পাল্টে দিয়েছে নিশানবাড়িয়ার চিত্র

মোরেলগঞ্জ : মাছের ঘেরের আইলে শসা চাষ পাল্টে দিয়েছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়ার চিত্র। ওই ইউনিয়নের উৎপাদিত শসা চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আর এ কারনে শসা উৎপাদনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে শসা উৎপাদনকারী চাষীর সংখ্যা। এসব শসা উৎপাদিত হচ্ছে ওই ইউনিয়নের শতাধিক মাছের ঘেরের আইলে।  

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন যেখানে প্রতিবছর শত শত মে.টন শসা উৎপাদিত হয়। এ ইউনিয়নে কৃষকের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৩০ জন। এর মধ্য থেকে ৩ শতাধিক চাষী শসা চাষাবাদে উৎসাহিত হয়ে চলতি বছরে প্রায় শতাধিক ঘেরের আইলের পাশে শসা’ চাষ করছে। জুন-জুলাই মাসে শসা চাষের মৌসুম। দেড় মাস পরেই উৎপাদন ও বিক্রি শুরু করে কৃষকরা। ৩ মাস পর্যন্ত চলে এর উৎপাদন ও বেচা-কেনা। পুরা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কৃষকরা শসা বিক্রি করতে পারবেন। সিংহ ভাগ শসা পাইকারী হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি সপ্তাহে ট্রাক ভর্তি শসা চলে যায় ঢাকা -চট্রগ্রামসহ পাশর্^বর্তী জেলাগুলোতে।
 
ইউনিয়নের হরতকিতরা গ্রামের কলেজ শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান, গত বছরে তিনি ১০ মে.টন শসা উৎপাদন ও বিক্রি করেছেন। চলতি বছরে তিনি তার ঘেরের আইলে শসা চাষ করে ১৫ মে.টন ফলন পেয়েছেন। গুলিশাখালী গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, ঘেরে মৎস্য চাষ ও ঘেরের আইলে শসা উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছরে শসা বিক্রি করে প্রথম দিকে তেমন লাভ না হলেও শেষের দিকে তারা ভাল দাম পেয়েছেন।

নিশানবাড়িয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গতবছরে এ ইউনিয়নে সাড়ে ৩ শ’ ১০ মে.টন শসা উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি বছরে ৩ শ’ ৫০ মে.টন শসা উৎপাদিত হয়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ বলেন, চাষীরা এ মৌসুমে ঘেরের বৃষ্টির মিষ্টি পানি ব্যবহার করার কারনে শসা সহ অন্যান্য সবজির ফলন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে এসব কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। নিশানবাড়িয়ায় ব্যাপকহারে শসা উৎপাদনে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে বারইখালী ও জিউধরা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এখন শসা চাষ শুরু হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য