নন্দীগ্রামে  কৃষি বিভাগে যুক্ত হলো ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’

নন্দীগ্রামে  কৃষি বিভাগে যুক্ত হলো ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’

নন্দীগ্রামে  কৃষি বিভাগে যুক্ত হলো ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’

নন্দীগ্রামে কৃষি অফিসারের উদ্যোগে যুক্ত হলো ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। খোলা আকাশের নিচে আড়াআড়িভাবে টেবিল পাতা। পাশে কয়েকটি প্লাস্টিকে চেয়ার। সামনে টেবিলে রাখা  বিভিন্ন রকমারি  ফল- ফসলের লতাগুল, নিরাপদ ও জৈব কৃষি উপকরণ প্রদর্শন, কৃষি লিফলেট,  কৃষকের কাছ থেকে  রোগের বর্ণনা শুনে প্রেসক্রিপশন সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন  তারা। উদ্ভিদ চিকিৎসার  এ কেন্দ্রটির নাম দেয়া হয়েছে ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবুর  উদ্যোগে এই ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ গত ৯নভেম্বর পরিদর্শন করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, এসময় উপস্থিত ছিলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাত, উপজেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার  অপূর্ব ভট্রাচার্য্য, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার নজরুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। প্রথমদিনেই বিষমুক্ত শাকসবজিসহ কৃষকদের ধান উৎপাদনে সমাধানে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবুর উদ্যোগে উপজেলার ভাটগ্রাম  ইউনিয়নের কালিশ-পুনাইল তিন মাথা মোড়ে ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ এ উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক। 

প্রথম দিনেই সমাধান পেতে ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ এ মরিচ গাছ নিয়ে আসেন পুনাইল গ্রামের চাষি মোয়াজ্জেম হোসেন, তার মরিচ গাছের  পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে।  পেঁপে চাষি  আবু তালেব ধান চাষি মুকুল হোসেনসহ অনেকে সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন ফসলের পোঁকা ও  রোগাক্রান্ত হওয়ার সমস্যা নিয়ে এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তাদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধের পাশাপাশি পোকা দমনের পরামর্শ প্রদান করেন।  

কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার  ৫টি ইউনিয়ন  ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার  কৃষক রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে  একদিন করে প্রতিটি ইউনিয়নে  সারাদিন ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ কৃষকদের কৃষি সেবা দেয়া হবে। ফসলের যে কোনো রোগবালাই  দমন ও  মাঠে ফসলের পূর্বে  প্রস্ততি বিষয়ে কৃষকদের দেয়া হচ্ছে লিখিত ব্যবস্থাপত্র। যার ফলে যেকোন কৃষক-কৃষাণী তার কৃষি  বিষয়ক সমস্যা সহজেই সমাধান করতে পারবে। 

নন্দীগ্রাম  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, প্রতি সপ্তাহে  ১ দিন নির্দিষ্ট  স্থানে ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম’ বসানো হবে। কৃষকরা  স্যাম্পল নিয়ে আসবেন সেসব পর্যবেক্ষণ করে প্রেসক্রিপশন দেয়া হবে। এতে  ক্ষতিকারক চোরাই বা ভেজাল বিষ ব্যবহারে সুযোগ কমবে।  বিষের ক্ষতিকারক প্রয়োগ বন্ধ হয়ে  পরিবেশ বিনষ্ট হ্রাস পাবে।  কৃষির সাথে  সম্পৃক্ত সকল শ্রেণীপেশার মানুষের দোড়গোড়ায়  কৃষি সেবা পৌছানোর পাশাপাশি আধুনিক, নিরাপদ, বানিজ্যিক কৃষি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে  এই ‘প্লান্ট ডক্টর মোবাইল টিম'। 

পাঠকের মন্তব্য