ভিজিএফের চাল পচল গুদামে, পুকুরে ফেললেন চেয়ারম্যান

তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ

তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ভিজিএফের চাল সুবিধাভোগীদের না দিয়ে পচা চাল পুকুরে ফেলে দেওয়ায় সাধারণ জনতা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সোমবার (৮ নভেম্বর) উপজেলার তিলাই ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার তিলাই ইউনিয়নে গত ঈদুল আজহার সময় প্রায় তিন হাজার দরিদ্র পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়। ভিজিএফের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এনে ভিজিএফ কমিটির সদস্যরা সুবিধাভোগীদের সশরীরে উপস্থিত না হলে চাল দেওয়া হবে না মর্মে নিয়ম করেন এবং সুষ্ঠু বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন।

পরে আইসিটি অফিসার রুবেল সরকারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তদন্ত করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। দরিদ্র পরিবারগুলোকে চালও দেওয়া হয়নি।

ভিজিএফ কমিটির সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী না পাওয়ায় ১৭৫ জনের চাল বিতরণ না করেই ওই চাল ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে রাখা হয়। পরে চালগুলো পচে নষ্ট হয়ে যায়। পুকুরে চাল ফেলে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। বিতরণ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তালিকার গরমিলের কারণে চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি।

দীপক কুমার দেব শর্মা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিলাই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ভিজিএফ সুবিধাভোগী আছর উদ্দিন ও ৮ নং ওয়ার্ডের আবুল কালাম জানান, স্লিপ নিয়ে তিন-চার দিন ইউনিয়ন পরিষদে এলেও চেয়ারম্যান তাদের চাল না দিয়ে স্লিপ নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছেন।

এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে পরিষদের গুদামে রক্ষিত চাল পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় জনগণ। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা রুবেল সরকার বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সমন্বয়হীনতার কারণে ভিজিএফ চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল হক শাহিন শিকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মা ঢাকা পোস্টকে জানান, পুকুরে চাল ফেলে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। বিতরণ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তালিকার গরমিলের কারণে চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি।

পাঠকের মন্তব্য