লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ? 

সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকার

সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকার

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে (নাসিক) জয়-পরাজয়ে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে বেশকিছু বিষয়। শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে ভোটারদের রায় যাবে তার নির্ণায়ক হতে পারে অনেকগুলো সমীকরণ। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নারায়ণঞ্জের ভোটের মাঠে ফ্যাক্টরগুলো তুলে ধরা হয়। সেখানে মেয়র পদে লড়াই করা প্রধান দুই প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকার কোন হিসাব-নিকাশে এগিয়ে ও পিছিয়ে আছেন তা উঠে আসে। নাসিকের ভোটে তাদের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। নারায়ণগঞ্জ সদরের ৮টি ওয়ার্ড ও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে তুলনামূলক কিছুটা এগিয়ে আইভী। আর বন্দরের ৯ ওয়ার্ডে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস মিলেছে।

প্রতিবেদনে এও বলা হয়, নির্বাচনে হেফাজত ও জামায়াতের অধিকাংশ ভোট আইভীর বিপক্ষে যাবে। এ ছাড়া সেখানে জাতীয় পার্টির আনুমানিক ৩০ হাজার ভোট রয়েছে। এই ভোটের অধিকাংশ আইভীর বিপক্ষে যাবে। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটিতে আড়াই লাখের মতো নারী ভোটার রয়েছেন। অধিকাংশ নারী ভোটারের ভোট আইভীর নৌকার বাক্সে পড়তে পারে। এ ছাড়া ৫০ হাজারের মতো হিন্দু ভোটার রয়েছে। এর অধিকাংশ ভোটও আইভীর পক্ষে যাবে।

দেশে-বিদেশে নানা সময় ভোটের মাঠে চিত্র নিয়ে গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। কখনও ভোটের ফলের সঙ্গে প্রতিবেদনের তথ্য মিলে যায়। আবার কখনও ভিন্নও হয়। প্রতিবেদনের আভাসের সঙ্গে ভোটের মাঠের আসল চিত্রের পুরোপুরি অমিল হয় অনেক সময়। তবে যারা প্রতিবেদন তৈরি করেন তাদের দায়িত্ব হলো মাঠের চিত্র সংশ্নিষ্ট দপ্তরকে জানানো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আইভীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাস্টিং ভোটের ৫২ শতাংশ তিনি পেতে পারেন। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্নেষণ করে গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিশ্নেষণ ও মূল্যায়নের পরিবর্তন হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, তৈমূরের নিজ ভোট, আওয়ামী লীগের অভিমানী ভোট, জামায়াত ও হেফাজত তার পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া তৈমূর বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালিয়েছেন। তার পক্ষে ৩-৪ জনের ছোট ছোট গ্রুপ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছে। আইভীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শোডাউন হলে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার প্রবণতা কম ছিল।

পাঠকের মন্তব্য