পরকিয়ার জেরে পুস্পেন্দু বিকাশ হত্যার রহস্য উদঘাটন

পরকিয়ার জেরে পুস্পেন্দু বিকাশ হত্যা

পরকিয়ার জেরে পুস্পেন্দু বিকাশ হত্যা

খুলনার পাইকগাছায় চর্তুমুখী পরকিয়ার জেরে পুস্পেন্দু বিকাশ (বাবু) হত্যার ৫ বছর পর মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী অনুভা মন্ডল এখন কারাগারে। চলতি ১০ জানুয়ারি পাইকগাছার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার ধার্য্য দিনে শুনানীন্তে বিজ্ঞ বিচারক বাদীকে জেলা-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় অন্য আসামীদের সাথে অনুভা'র জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডি তার বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক ( চার্জশিট) অভিযোগ পত্র দাখিল করলে তা গৃহীত হয়। এর পূর্বে থানা পুলিশের তদন্ত সহ  ডিবি পুলিশ তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন। 

এ হত্যা মামলায় তদন্তে আসামী পবিত্র মন্ডল, সুজন রঞ্জন এজাহার নামীয় একরামুল,শামিম ও  নিহতের শ্বাশুড়ি নীলা জামিনে মুক্ত আছে ও তদন্ত প্রাপ্ত আসামী গৌর বাইন পলাতক রয়েছে। 

জানাগেছে, গত ২৯ নভেম্বর-১৬ সালে পুস্পেন্দু বিকাশ ( বাবু) রাত ৮ টার দিকে সুড়িখালী বাজার থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ী বগুড়ারচকে আসছিলেন। এক পর্যায়ে রহিম হাজীর ঘেরের কাছা-কাছি পৌঁছালে পিছন দিক থেকে মোটর সাইকেলে এসে  ভাড়াটে খুনি কয়রার চান্নিরচকের শামিম গাজী (২৪), একরামুল গাজী (১৭), পাটনীখালীর সুজন রঞ্জন (৩০) গংরা বাবু'র মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে নির্মম ভাবে খুন করে পালিয়ে যায়। খুনের পর শামিম ও একরামুল মোটরসাইকেলে চান্নিরচকের দাইপাড়ায় পৌঁছালে এ সময় মোটরসাইকেলের চেইন ছিড়ে গেলে ওরা গাড়ী রেখে পালিয়ে যায়। যা পুলিশ উদ্ধার করেন। 

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অনুভা মন্ডল বাদী হয়ে শামিম, একরামুল সহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। খুনের একদিন পর স্থানীয়দের সহায়তায় কযরার নারায়ণপুর বাজারের একটি সেলুন থেকে শামিমকে গ্রেফতার করেন তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন এসআই ও বর্তমান বাগেরহাটে কর্মরত ডিবি'র ইন্সপেক্টর স্বপন কুমার রায়। শামিমের তথ্য মতে একরামুল গ্রেফতার হন। এরা দু'জনই  খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা বলে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়। তদন্তের এক পর্যায়ে আলোচিত মামলটি ৩১-৮-১৭ সালে গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি) তে হস্তান্তর হয়। 

ডিবি'র  ইন্সপেক্টর এসএম আলমগীর কবির তদন্তে প্রাপ্ত পালাতক কয়রার পাটনিখালী গ্রামের পবিত্র মন্ডল ( ৩০) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে ফৌঃ কাঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করান। তদন্তের এক পর্যায়ে তার বদলী হলে ডিবি'র ৩য় তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক গোপাল চন্দ্র রায় নিয়োজিত হলে তার তদন্তে এ হত্যা মামলার ব্যপক রহস্য উদঘাটন হয়। 

থানা পুলিশের তদন্ত ও ডিবি সহ সিআইডি'র পুলিশ পরিদর্শক খান গোলাম ছরোয়ারের দেয়া সম্পূরুক  অভিযোগ পত্রে উল্লেক করা হয়েছে বিয়ের পর পুস্পেন্দু বিকাশ বাবু ( ৪০) ও স্ত্রী অনুভা মন্ডলের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। তাদের ঔরসে পুত্র ত্রিদিপ ও কণ্যা অর্নি জন্ম গ্রহণ করে। এরই মধ্যে বাবু'র শ্যালিকা স্মৃতিকনা মন্ডল পশ্চিম বাইনবাড়ীয়ার গৌরপদ বাইনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জানাজানির পর এক পর্যায়ে বাবু ও গৌর বাইনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতি হলে শ্বাশুড়ির অনুরোধে স্মৃতিকনাকে বাবু'র বাড়ীতে এনে রাখে। এখানে কিছুদিন যেতে না যেতেই বাবু ও স্মৃতিকনার মধ্যে অবৈধ সম্পক গড়ে উঠে। এ ঘটনায় বাবু ও অনুভা'র মধ্যে অশান্তি এমনকি সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এদিকে বাবু'র বন্ধু পাটনীখালীর পবিত্র মন্ডল বগুড়ারচকে বাবুর বাড়ীতে আসলে অনুভার পরিচয় হয়।

এ পরিচয় এক সময় পবিত্র ও অনুভা দু'জনে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। চর্তুমুখী সম্পর্কের জেরে বাবু-অনুভা দম্পতি সংসারে চরম সংকট দেখা দেয়। তিক্ততার এক পর্যায়ে শ্বাশুড়ি নীলা, স্ত্রী অনুভা, শ্যালিকার পূর্ব প্রেমিক গৌর ও পবিত্র খুনের পরিকল্পনা করে। খুনের ১ সপ্তাহ পূর্বে পবিত্র'র চায়ের দোকানের পিছনে শামিম, একরামুল, গৌর ও সুজন একত্রে বসে। এ সময় পবিত্র বাবুকে শায়েস্তা করার জন্য শামিম ও একরামুলকে ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি হয়ে ঘটনার দিন ২৯ নভেম্বর' ১৬ সালে শামিম ও একরামুল সন্ধ্যার পূর্বে  শুড়িখালী ব্রীজের কাছে অবস্থান নেয়। বাবু এক সময় শুড়িখালী বাজারের কাজ শেষে রাত ৮ টার পর মোটরসাইকেল যোগে বাড়ী ফিরছিলেন। এ সময় পবিত্র মোবাইলে শামিম ও একরামুলকে জানিয়ে দিলে ওরা একটি মোটরসাইকেলে পিছু নেয়। 

বাবু পাতড়াবুনিয়া রহিম হাজীর ঘের পর্যন্ত পৌঁছালে শামিম, একরামুল গংরা তার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ী দিয়ে বাবু'র মাথায় উপর্যপুরি আঘাতে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে আনার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বাবু'র মৃত্যু হয়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অনুভা মন্ডল বাদী হয়ে শামিম, একরামুল সহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে এ হত্যা মামলার বাদী অনুভা মন্ডল জেল-হাজতে গেলে তার একমাত্র ছেলে ত্রিদীপকে কে বা কারা হুমকি দিচ্ছে এ মর্মে থানায় জিডি হয়েছে। এ বিষয়ে ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, জিডি'র বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য