ওমিক্রনের তিনটি উপধরন : নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় নির্দেশ

ওমিক্রনের তিনটি উপধরন : নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় নির্দেশ

ওমিক্রনের তিনটি উপধরন : নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় নির্দেশ

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত কয়েক দিনে তিন দফায় বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। ১০ জানুয়ারি সভা-সমাবেশ বন্ধসহ ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এরপর গত শুক্রবার দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করাসহ ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সবশেষ গতকাল দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালনার নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে আজ দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্দেশনার ওই চিঠি পাঠানো হয়।

ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পালাক্রমে (রোস্টারিং) অর্ধেক কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তবে এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নিজ কর্মস্থল এলাকায় অবস্থান করে দাপ্তরিক কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি সম্পন্ন করবেন। তবে আবশ্যকীয় ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে নিজ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।

এ ছাড়া ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এর আগে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো অপর এক নির্দেশনায় ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এবারের নির্দেশনায় ব্যাংকিং সময় না কমালেও সংক্রমণ কমাতে অর্ধেক জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগেও গত বছর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকে লেনদেনের সময় কমানোসহ অর্ধেক জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। এবারের নির্দেশনায় ব্যাংকিং সময় না কমালেও সংক্রমণ কমাতে অর্ধেক জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

বাস ও মিনিবাসসহ গণপরিবহনের ভাড়ার তালিকা সহজে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি জানিয়ে পরে আইনজীবী মো. আবু তালেব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাস থামার প্রতিটি নির্দিষ্ট জায়গায় প্রকাশ্যে ও যাত্রীদের কাছে সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রকাশ ও ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডের মাধ্যমে ওই তালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাস ও মিনিবাসসহ গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রুলে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী বাস, মিনিবাস তথা গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নে ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, সহকারী সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ও পরিচালকসহ (প্রকৌশল) বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে সক্রিয় ওমিক্রনের তিনটি উপধরন

এদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের তিনটি উপধরন (সাব-টাইপ) চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উপধরনগুলো রাজধানীতে বেশি ছড়াচ্ছে। জানুয়ারি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ঢাকায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ (সোমবার) সকালে প্রতিষ্ঠানটি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আইসিডিডিআরবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জিনোম সিক্যুয়েন্স বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে তিনটি সাব-টাইপ রয়েছে। এগুলো আফ্রিকান, ইউরো-আমেরিকান এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ওমিক্রন ধরনের সঙ্গে মিলে যায়।

আইসিডিডিআরবি বলছে, জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে তাদের ল্যাবরেটরিতে ১ হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৮ শতাংশই ছিল করোনায় আক্রান্ত। আর আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন ছিল ৬৯ শতাংশের দেহে।

গবেষণা সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে ৬ ডিসেম্বর ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত  ঘোষণা আসে ১১ ডিসেম্বর। ওই মাসেই আইসিডিডিআরবির ল্যাবে পরীক্ষা করা ঢাকা শহরের ৭৭ করোনা রোগীর মধ্যে পাঁচটিতে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্যগুলো ছিল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

ওমিক্রনে আক্রান্ত ২৯ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে আইসিডিডিআরবি প্রতিবেদনে। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ জন ও মহিলা ১৬ জন। ২৭ জনের কোনো উপসর্গও ছিল না। ২৯ জনের মধ্যে মাত্র একজনকে একদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। করোনার এই ধরনে আক্রান্ত একজন সৌদি আরব থেকে ফেরা। বাকিরা দেশে থেকেই আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের তথ্যানুযায়ী, দেশে এখন করোনা আক্রান্তের হার ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯০৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

পাঠকের মন্তব্য