বাংলা বর্ষবরণ : সীমিত পরিসরে হবে উদযাপন

বাংলা বর্ষবরণ : সীমিত পরিসরে হবে উদযাপন

বাংলা বর্ষবরণ : সীমিত পরিসরে হবে উদযাপন

“বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অনুষ্ঠান বিগত দুই বছর অতিমারী করোনার কারণে আমরা করতে পারিনি। এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সীমিত পরিসরে উদযাপন করা হবে”।

আজ মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল ২০২২) দুপুরে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নির্দেশনামূলক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে একথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার)।

উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সম্মানিত মহানগরবাসীকে নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “পবিত্র রমজান মাস ও যানজটের কথা মাথায় রেখে এবারের বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সকল কার্যক্রম বেলা দুইটার মধ্যে শেষ করা হবে এবং একটার পরে কাউকে রমনা পার্কে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না”।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও মঙ্গলশোভাযাত্রা কেন্দ্রিক সকল এলাকায় থাকবে সিসি ক্যামেরা”।

তিনি বলেন, “রমনার বটমূল ও আশপাশ এলাকায় ডিএমপির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে সুইপিং করানো হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে থাকবে ডিএমপি ও সোয়াটের সমন্বিত ওয়াচ টাওয়ার, যারা সবকিছু উপর থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন”।

রমনা কেন্দ্রিক সকল রাস্তায় রোড ডাইভারশন থাকবে, থাকবে পুলিশের চেকপোস্ট। সম্মানিত নগরবাসীকে নিজেরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশকে সহায়তা করার অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ইভটিজিং প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সাধারণ মানুষের সাথে মিশে থাকবে”।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেউ বাইরে থেকে ঢুকতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ ঢুকতে চাইলে তাকে কঠোর পুলিশের বাধার সম্মুখীন হতে হবে। আর মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেউ মুখোশ পরতে পারবেন না”।

২০০১ সালের ঘটনা স্মরণ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “যাতে পূর্বের ঘটনার পূনরাবৃত্তি না ঘটে এজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে থাকবে। থাকবে ডিএমপির সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্প ডিসপোজাল ইউনিট ও ডিবি পুলিশ। যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাহলে কোন রাস্তায়, কীভাবে জনসাধারণকে সরিয়ে নেয়া হবে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আলাদা পুলিশ ফোর্স”।

এর আগে রমনার বটমূল ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

এসময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম বিপিএম (বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণপদ রায়, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার, বিপিএম (বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম (বার); অতিরিক্ত পুলিশ কশিনার (ট্রাফিক) মোঃ মুনিবুর রহমানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য