নবীগঞ্জে ধর্ষণকারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

নবীগঞ্জে ধর্ষণকারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

নবীগঞ্জে ধর্ষণকারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত মৃত ওয়াহাব উল্লার পুত্র নুরুল ইসলাম নাহিদ (৩৪) নামের এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা প্রদানের রায় দিয়েছেন হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ট্রাইব্যুনাল-৩ ৷ অপর আসামী নাহিদের ভাবীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়৷ উক্ত রায় প্রদান করেন হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিজ্ঞ বিচারক মোঃ হালিম উল্লাহ্ চৌধুরী৷ 

বুধবার ২০২২ ইং তারিখে উক্ত রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুরুল ইসলাম নাহিদ পলাতক ছিলেন৷ এতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, বিজ্ঞ স্পেশাল পিপি মোঃ মোস্তফা মিয়া, বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোঃ বদরু মিয়া৷ মামলার এজাহারে উল্লেখ ও আদালত সূত্রে জানাযায়, বিগত ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই দুপুর অনুমান ১ ঘটিকায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি নুরুল ইসলাম নাহিদের ভাবী রিনা বেগম কাজ আছে বলিয়া লিমা আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীকে নাহিদের ঘরে ডেকে নিয়া যান। সেখানে লিমাকে রেখে রিনা বেগম চলে যান৷ এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে জোর পূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করে নাহিদ৷ 

এই ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন৷ উক্ত মামলায় অধিকতর তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তার ভাবীর বিরুদ্ধে গত ০৮/০৪/২০১৯ ইং তারিখে চার্জশীট প্রদান করেন তৎকালীন নবীগঞ্জ থানার ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ শামছ উদ্দীন খাঁন৷ এরই প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন শুনানী শেষে সমস্ত সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত এই রায় প্রদান করেন৷ উল্লেখ যে, উক্ত মামলায় আসামী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘটনার পরপরই দীর্ঘদিন পলাতক শেষে সম্প্রতি নবীগঞ্জের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চল পানিউমদা টেকইয়ার পাহাড়ে অবস্থিত মিন্টু মিয়ার বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

পরে প্রায় ৩ বছর জেল হাজত বাস করে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো পলাতক হন৷ তাই গতকাল বিজ্ঞ আদালতে রায় প্রদানকালে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন৷ উক্ত রায় শোনে বাদী পক্ষ আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন৷ এ ব্যাপারে বাদী গোলজার মিয়া বলেন, আমরা বিজ্ঞ আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি৷

পাঠকের মন্তব্য