বছরে ১০.২ টন প্লাস্টিক ঢুকছে বাংলাদেশীদের দেহে 

ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত এবং ও খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া সাদা চিনিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় এমন তথ্য জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, শুধু চিনি গ্রহণের মাধ্যমেই বছরে ১০.২ টন মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বাংলাদেশের মানুষের দেহে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিকের কণা গ্রহণের ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এ গবেষণায় সহযোগিতা করেন অধ্যাপক খবির উদ্দিন, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন ও নয়ন হোসেন খান এবং ব্রাজিলের গবেষক মালাফ্যায়া গুলহাম।

উল্লেখ্য, গবেষণাটি স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিনের থিসিসের অন্তর্ভুক্ত। গবেষণাটি এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে প্রকাশনার জন্য জনপ্রিয় সায়েন্স জার্নাল 'সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট' কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

গবেষণা প্রধান  ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বাজারের চিনিতে কখন বা কোন প্রক্রিয়ায় এসব ক্ষতিকর কণা যুক্ত হয় সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে আমদানি, প্যাকেজিং ও প্রসেসিংয়ের সময় মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা যুক্ত হতে পারে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত ও নামি-দামি ব্যান্ডের ৫ টি  নমুনা  ঢাকার সুপার শপ থেকে এবং দুটি নমুনা খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এগুলোর সবই সাদা চিনি ছিল।  তবে ব্র্যান্ডগুলোর নাম প্রকাশ করেনি গবেষক দল।

এক প্রশ্নের জবাবে এই গবেষক দলের প্রধান বলেন, ব্র্যান্ডের চিনি ও খোলা বাজারের চিনির মধ্যে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার তেমন কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। সব নমুনাতেই প্রায় সমান মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নানা রং ও নানা শেপের প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতি কেজিতে অন্তত ৩৪৪ এর বেশি কণা মিলেছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার মানবদেহে ক্ষতির বিষয়ে এই গবেষক বলেন, মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা কি ক্ষতি করে তা বিশ্বের কোথাও এখনো গবেষণা হয়নি। তবে প্লাস্টিক তৈরিতে যে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয় তা মানবদের জন্য ক্ষতিকর।  তাই মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণার গ্রহণের ফলে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি রয়েছে।

এসব ঝুঁকি এড়াতে এই গবেষকের পরামর্শ হল- যেহেতু এসব খাদ্যসামগ্রী আমরা সরাসরি খেয়ে থাকি তাই বাজারে আসার আগে এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা উচিত। পণ্যমান নিয়ন্ত্রকারী সরকারী সংস্থা বিএসটিআইয়ের অধীনে নতুন নতুন ক্ষতিকর দূষণের বিষয়গুলো পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা দরকার বলেও মনে করেন ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তথ্য- পার্সটুডে

পাঠকের মন্তব্য