সুন্দরবনের কাছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান 

সুন্দরবনের কাছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান 

সুন্দরবনের কাছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান 

সুন্দরবনের কাছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এই নিদর্শন প্রায় ১ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো হতে পারে বলে ধারণা প্রত্নতাত্ত্বিকদের। পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামে শিংয়ের বাড়িতে মন্দিরের মতো দেখতে একটি স্থাপনাসহ বসতির নিদর্শন পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে পোড়া চাল, কড়ি, মূর্তি, টেরাকোটা, মাটির তৈরি বড় কড়াইয়ের আংটাসহ বেশ কিছু নিদর্শন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার নেতৃত্বে একটি দল এসব নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছে। ৪ জন কর্মকর্তা, ৫ জন বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারী, বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ২ জন দক্ষ খনন শ্রমিক, বাগেরহাটের ৪ খনন শ্রমিক ও স্থানীয় ১০ শ্রমিক স্থানটিতে গত ১২ মার্চ থেকে খননকাজ শুরু হয়। এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই খননকাজ করেন প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি।

দলটির ধারণা, কপিলমুনি থেকে সাতক্ষীরার তালা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় প্রাচীন বসতিসহ ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক স্থাপনার নিদর্শন থাকতে পারে। খননসহ অনুসন্ধান চালালে এই নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে তারা আশাবাদী।

প্রত্নতাত্ত্বিক দলটির প্রধান আফরোজা খান। তিনি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক। 

আফরোজা খান প্রজন্মকন্ঠের প্রতিনিধিকে বলেন, ‘রেজাকপুর গ্রামে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পর্যবেক্ষণ করে আমাদের মনে হয়েছে, তা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো। আগে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর এলাকায় যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে রেজাকপুরের নিদর্শনের মিল আছে। ফলে পুরো এলাকায় প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন থাকতে পারে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।’

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদের্শন পরিদর্শনকালে খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিগণিত ৷ বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, জাতিসত্ত্বা বিকাশের সুদীর্ঘ পথ-পরিক্রমা উদঘাটনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার এ দেশের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ রেজাকপুরে আবিস্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনটি খননে উঠে আসা বিভিন্ন প্রত্ন-বস্তুর নমুনা ও কাঠামো দেখে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে মনে হয়েছে এটি নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর।

এ অঞ্চলের প্রত্নভান্ডার উদ্ধার ও তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগামীতে সেখানে দীর্ঘ মেয়াদী খনন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছা উপজেলার এই জনপদে প্রাচীনকালের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বংশের বিশেষ ব্যক্তিদের বসবাস ছিল। কালক্রমে তাদের সেসব স্থাপনা মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। যার নিদর্শন রেজাকপুর গ্রামের কপিলমুনি শিংয়ের বাড়িতে এই আবিষ্কার।

এসময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহরিয়ার হক, সি এ হুমায়ুন কবির, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, উপজেলা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান খান, পিআইও ইমরুল কায়েস, আওয়ামীলীগ নেতা যুগোল কিশোর দে, কপিলমুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজু সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য