ভূরুঙ্গামারীতে মধ্যে রাতের ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ভূরুঙ্গামারীতে মধ্যে রাতের ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ভূরুঙ্গামারীতে মধ্যে রাতের ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মধ্যে রাতের ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এই ঝড় শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে গেছে। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রচন্ড বৃষ্টিতে কৃষকের উঠতি ফসল বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে লোডশেডিং চলছে সর্বত্র।

সরেজমিনে উপজেলা দেওয়ানের খামার, কামাত আঙ্গারিয়া, বাগভান্ডার, সোনাতুলী, পশ্চিম ছাট গোপালপুর, চর ভূরুঙ্গামারী, বলদিয়া ইউনিয়ন, পাইকেরচড়া ও ইসলামপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যে রাতের ঝড়ের তান্ডবে বিভিন্ন জাতের বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে সুপারিগাছসহ অন্যান্য গাছপালা। উড়ে গেছে টিনের চাল ভেঙে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি।
 
ঝড়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের আব্দুল গাফফার এর বসত ঘরের উপর বড় একটি কদম গাছ ভেঙে পড়ে পুরো ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একি ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারি গ্রামের বাবুল হোসেন বাবলু জানান, তার বৃদ্ধ মায়ের থাকার ঘরের উপর একটি বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তার মা।

সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও শিউলি বেগম দম্পতি জানান, তাদের একমাত্র থাকার টিনসেট ঘরটি ঝড়ে উড়ে গেছে। এখন সন্তানদেরকে নিয়ে খোলা আকাশের নীচে তারা।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকের ছড়া গ্রামের মেছবাহ, আলম. রানা ও আনোয়ার জানান তাদের গ্রামের ১০-১২টি টিনসেট বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু গাছ পালা ভেঙে পড়েছে।

চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক বাবু মিয়া বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। আড়াই বিঘা জমির ধান কেটেছি বাকি ধান গত রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।

একই ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলি, সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক, সুমন শিকদার, আব্দুল সামাদ আবুল হোসেন, শাহ আলী, সৈয়দ আলী ও মরিয়ম বেগমসহ আরো অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোতে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, ঝড়ে উপজেলায় কি পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণের কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়- ক্ষতি নির্ধারণের কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য