রাজশাহীর বাটার মোড়ের নাম ‘জয় বাংলা চত্বর’ ঘোষণা

মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে রাজশাহী মহানগরীর বাটার মোড়ের নাম ‘জয় বাংলা চত্বর’ ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মঙ্গলবার বিকালে বাটার মোড়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি।
 
সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীর বাটার মোড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন নানা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করে। এ প্রসঙ্গ টেনে খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বাটার মোড়’ চত্বরসহ আরও কয়েকটি চত্বরে বিএনপির নেতাকর্মীরা চেয়ার বিছিয়ে শোডাউন দেন। ৩০ জন ও ৪০ জন করে চা খাওয়ার নাম করে চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন। রাস্তা কোনো শোডাউন দেওয়ার জায়গা নয়। একদিন জনসভা করতে পারেন পারমিশন নিয়ে। কিন্তু দিনের পর দিন চা খাওয়ার নাম করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় দখল করবেন, এটা মেনে নেওয়া যাবে না। এভাবে যারা মোড়ে মোড়ে বসে ভাবছেন মোড় দখল করবেন, তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। আর এই পবিত্র দিনে আজ থেকে এই মোড়ের নাম ‘জয় বাংলা চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করলাম।

বিএনপি নেতাদের সরকারবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্যের জবাবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ব্যর্থ ছিল না। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আজকে চালের দাম, তেলের দাম একটুখানি বেড়েছে বলে যারা ইস্যু খুঁজে পাচ্ছেন, বাজারে ডলারের দাম বেড়েছে বলে ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছেন আর বলে বেড়াচ্ছেন, বাংলাদেশে দুই দিন পর শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক ধস নামবে, তাদের বলি, মাহিন্দা রাজাপাকসে বা তার ভাইয়ের মতো নেতা শেখ হাসিনা নন।
 
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ‘সবজান্তা শমসের’ আখ্যায়িত করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বাংলাদেশে আজকে ঋণ পরিশোধের যে সক্ষমতা, তা অর্থনীতিবিদদের ভাষায় ভালো অবস্থায় আছে। অর্থনীতিবিদেরা যা বোঝেন, যা বলেন, এর চেয়ে যদি মির্জা ফখরুল বেশি বুঝে যান, তাহলে আর এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই। তিনি যেভাবে বলছেন, তাতে তাকে বলা যেতে পারে সবজান্তা শমসের। আজকে এই দেশ যে নিরাপদ, তা একটা শিশুও জানে। শিশুরা আদর করে শেখ হাসিনাকে নানান নামে ডাকে। এই শিশুরা জানে যে এই দেশ তার বাবার নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে, উন্নতি হচ্ছে শেখ হাসিনার কল্যাণে। তাই তারা বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা এ দেশে না এলে এ দেশের এত উন্নয়ন হতো না।
 
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের শিখরের কাছাকাছি চলে গেছে। আমরা আরও উন্নয়ন চাই। আমরা চাই, নেত্রী আরও কয়েক বছর এ দেশের ক্ষমতায় থাকুন। এখনো অনেক মেগা প্রকল্পের বাকি আছে। প্রধানমন্ত্রী ৭৬ বছরের একজন মানুষ, ক্লান্তি তাকে স্পর্শ না। তার সঙ্গে থাকব না তো কার সঙ্গে থাকব ?

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনসুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আঞ্জুম মিতা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য