সবসময় আ'লীগ সন্ত্রাস করে; ত্রাস করে ক্ষমতায় যায়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ তাদের যে স্বভাবসূরত চরিত্র, সবসময় তারা সন্ত্রাস করে; ত্রাস করে ক্ষমতায় যায়। সেভাবেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই অবস্থা তৈরি করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। 

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মতমিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এবং দেশের ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব তাদের বিরুদ্ধে বিষদগার করেছেন। এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ও অর্থনীতিবিদদেরও বিরুদ্ধেও বিষদগার করেছেন শেখ হাসিনা। বিএনপির বিরুদ্ধে বিষদগার করতে গিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) বিএনপি নির্বাচনে রিগিং করে ক্ষমতায় আসে এ ধরনের কথা বলেছেন। তার এই মন্তব্যের আমি তীব্র বিরোধীতা করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে জনগণকে ভোট দেয়ার কোন সুযোগ দেয়নি আওয়ামী লীগ। ১৫৪ টা আসনে বিনা ভোটে নির্বাচিত করে তারা ক্ষমতায় গেছে। একি ভাবে ২০১৮ সালেও তারা সারাদেশে একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে, নির্বাচন পূর্ব গায়েবী মামলা, অসংখ্য হাজার হাজার শত শত নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করা; এমনি প্রার্থী ১৯ জনকে বন্দি করা, আদালতকে ব্যবহার করা; এছাড়াও নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোটের আগের রাতেই নির্বাচনের ফলাফল আওয়ামী লীগ তাদের পক্ষে নিয়ে চলে গেছে। 

ফখরুল বলেন, এই যাদের ইতিহাস সেটা আজকের শুধু নয়, ১৯৭৩ সালে যখন আওয়ামী লীগের একক ছাত্র, অধিপত্য ও জনপ্রিয়তা ছিল তখনও কিন্তু নির্বাচনেও তারা কাউকে ছাড় দেয়নি। এটা তাদের স্বভাব, এই স্বভাবের জন্য তারা জোড় করে সবকিছুতে শক্তি ও বল প্রয়োগ করে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুস করতে চায়। 

তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে ইতিহাসই হচ্ছে আওয়ামী লীগের সেই ইতিহাস, তারা একে একে সমস্তকিছুকে পরিবর্তন করেছে, সংবিধান পরিবর্তন করেছে; সংবিধানের যে মৌলিক ধারাগুলো ছিল সেগুলো পরিবর্তন করে এটাকে আওয়ামী সংবিধানে পরিবর্তন করেছে। তিনটে অনুচ্ছেদ আছে যে অনুচ্ছেদ সম্পর্কে সংবিধানে এখন সংশোধন করে যেটা নিয়ে এসেছে, এখন বলা হচ্ছে এটাকে কোনদিন হাত দেয়া যাবেনা, আজীবন থাকবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন এই সংবিধানের তিনটে অনুচ্ছেদে হাত দেয়া যাবে না। 

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের যে মৌলিক চরিত্র, সংবিধানের যে মৌলিক চরিত্র এটা একটা প্রজাতন্ত্র; জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, জনগণ এই সংবিধানের পরিবর্তনসহ সবকিছু করতে পারে। এই ক্ষমতাটাও তারা নিয়ে চলে গেছে। ৭৫ সালে আমরা সবাই জানি কোন রেফারেমডাই ছাড়াই পার্লামেন্টে ৫ মিনিটের মধ্যে ক্রু করে একটা একদলীয় শাসন, বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল এই আওয়ামী লীগ। সুতরাং যখন তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনি এবং আমাদের অন্যান্য রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক দলগুলোকে এভাবে কথা বলেন তখন এটা হাস্যকর পরিস্থিতিতে দাঁড়ায় এবং এটাকে প্রতারণা ছাড়া কিছু বলা যায় না। 

নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ফখরুল বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ; তারপর ক্ষমতায় এসেছিল তারা। সুতরাং ক্ষমতার বাইরে থাকলে পতন হয়না। আমরা হচ্ছি উচ্চগামী ও উর্দ্ধগামী দল; তার প্রমাণ করার জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার, আর কিছু দরকার নেই আমাদের। 

এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

পাঠকের মন্তব্য