কলাগাছের ভেলায় চড়ে রঙ্গলালের পদ্মাসেতু পরিভ্রমণ !

মিয়া মনসফ, যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী(এমএনএ)

মিয়া মনসফ, যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী(এমএনএ)

মিয়া মনসফ : বেশ কয়েকদিন ধরে পদ্মাসেতু পরিভ্রমণে যাবে এমন মনস্থির করেছিল রঙ্গলাল।যাবে যাবে করে যাওয়া হয়নি। আজ মনের সাথে একাট্টা বেঁধেছে। সে যাবেই পদ্মাসেতু পরিদর্শনে। ছুটির দিন আজ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায় রঙ্গলাল। কিন্তু যাবে কিভাবে! গাড়ী ভাড়া তো অনেক।একে তো সংসার চালানো কঠিন। আর্থিক কারণে কত ইচ্ছাই তো পূরণ হয়না। ছেলে মেয়েদের পড়ার খরচ, দৈনন্দিন খরচপাতির চাপ আর সামলাতে পারছেনা রঙ্গলাল।তাই বলে স্বাদ আহ্লাদ কি পূরণ না করে পারে!

পদ্মসেতু পরিদর্শন এটা কোন স্বাদ আহ্লাদের বিষয় নয়। গর্বের সেতু পদ্মার সাথে পুরো জাতির আবেগ জড়িয়ে আছে। সে গর্ব ও আবেগ রঙ্গলালের মধ্যেও কাজ করে। এই আবেগ হচ্ছে শক্তি ও সাহস। এই আবেগ দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে এদেশের মানুষ। সাহসী হয়েছে বড় বড় বিপদে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ রঙ্গলাল দেখেছে। বয়সের কারণে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে পারেনি, মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতি রঙ্গলালকে আজো তাড়িয়ে বেড়ায়। আর পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে একটি কুচক্রিমহল প্রথম থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সেসব ষড়যন্ত্র উড়িয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা পদ্মাসেতু বানিয়েই ছেড়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্ত শেখ হাসিনার শরীরে বিদ্যমান। তাই হয়তো সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান স্রোতস্বিনী পদ্মার বুকে। 

২০০৮-৯ সালে প্রকল্প প্রস্তুতির সাথে জড়িত কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। বিশ্বব্যাংকের মতো অন্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ণ করতে রাজি হয়নি।কিন্তু বাস্তবে পদ্মাসেতুতে কোন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে কানাডিয়ান আদালত অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলাটি বাতিল করে দেন।

এই মিথ্যা অভিযোগে ঐ সময়কার একজন মন্ত্রী মন্ত্রিত্ব হারায়। সচিবকে যেতে হয় জেলে।

পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংক বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন ছাড়া যে এই রকম একটি বড় প্রকল্প করা সম্ভব, তা দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঘোষণা দেন, বিশ্বব্যাংকের টাকায় পদ্মা সেতু নয়। যেদিন আমাদের টাকা হবে সেদিন হবে পদ্মাসেতু। দেশের জনগণের টাকায় তৈরি করা হবে পদ্মাসেতু। তাঁর অসামান্য দৃঢ়তায় পদ্মাসেতু নিজেদের অর্থায়নে শুরু হয়ে এখন উদ্বোধণের অপেক্ষায়। আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হবে স্বপ্নের পদ্মাসেতু।চ্যালেঞ্জিং পদ্মাসেতু। গর্বের পদ্মাসেতু। বাঙ্গালি জাতির মাথা উঁচু করা পদ্মাসেতু।আগামীদিনে এগিয়ে যাওয়ার পদ্মাসেতু।ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত জবাব দেবার পদ্মাসেতু।

রঙ্গলালের এই পদ্মাসেতুর পুরো ইতিহাস জানা। আগামী ২৫ তারিখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। তাঁর আগে সবার মতো একবার পদ্মাসেতু পরিদর্শনে যেতে চায় রঙ্গলাল।দু’চোখ জুড়ে দেখতে চায় বাঙ্গালি জাতির সাহসের প্রতীক পদ্মাসেতু। পরম মমতায় মুহূর্তের জন্য একটু ছুঁয়ে দেখতে চায় আমাদের গর্বের পদ্মাসেতু।

আজ ছুটির দিন। আজই পদ্মাসেতু পরিদর্শনে যাবে রঙ্গলাল। কিন্তু কিভাবে! হাতে টাকাকড়িও নেই। পথখরচও কম না। কিন্তু টাকা ছাড়া কিভাবে যাবে তাহলে।

রঙ্গলাল বুদ্ধি আঁটে। একবার সে ঢাকা শহররের চারদিক পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণ করেছিল। সেই সাহসে পায়ে হেঁটে যাবার পরিকল্পনা নিল। কিন্তু তাকি সম্ভব! ঢাকা থেকে মাওয়া ৩৫ কিলোমিটারের পথ। এই পথ কিভাবে যাবে সেই চিন্তাই করছে রঙ্গলাল। 

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রঙ্গলাল।বাসা থেকে বের হয় মাওয়ার উদ্দেশ্যে।হাঁটতে থাকে পদ্মাসেতু দেখার অদম্য সাহস আর ইচ্ছা নিয়ে। হেঁটে হেঁটে পৌঁছে যায় সে ধোলাই খালের মোড়ে। যেখান থেকে মাওয়ার রাস্তার ধরে সে হেটে যাবে মাওয়াঘাটে। মালিবাগ মোড় থেকে হেঁটে এই পর্যন্ত আসতেই রঙ্গলাল ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।প্রচন্ড গরম। সাথে থাকা ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে এক ঢোক পানি মুখে ঢেলে দিলেন।হেঁটে মাওয়া যাওয়া কি এতো সহজ হবে! তবুও সে আশা ছাড়েনি। 

ধোলাইখাল মোড়ে একটু জিরিয়ে নিতে ফুটপাতে বসে পড়ে রঙ্গলাল। এমন সময় একজন মটরসাইকেল চালক আরোহী তার সামনে এসে দাড়ান। রঙ্গলালের কাছে জানতে চাইলো মাওয়া কোন্ দিকে যাবে।

এবার মটর সাইকেল আরোহীকে রঙ্গলাল জানতে চাইল, আপনে নিশ্চয়ই পদ্মাসেতু দেখবার যাইতাছেন ভাইজান!
মোটর সাইকেল আরোহী একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলো, আপনি কিভাবে বুঝলেন?

আপনের মুখখান দেইখ্যা বুঝবার পারছি। কী হাসিখুশি মুখখান আপনের। টানটান উত্তেজনা আপনের মুখের উপরে ভাইস্যা উঠছে! আপনে গানও গাইতাছেন! তাতেই আমি বুঝবার পারছি আপনেও আমার মতো পদ্মাসেতু পরিদর্শনে রওনা হইছেন।

হ্যা ঠিক ধরেছেন আপনি। তাহলে আপনি এখানে দাড়িয়ে কেন? কিভাবে যাইবেন মাওয়া ঘাটে? রঙ্গলালকে জিজ্ঞেস করলো মটরসাইকেল আরোহী!

আরে ভাই আমি তো একটু জিরিয়ে নিচ্ছি। তারপর হাঁটা শুরু করমু।
মানে কি! হাঁটা শুরু করবেন মানে !
হ্যা আমি তো হেঁটেই যাবো। 
হেঁটে কি মাওয়া যাওয়া সম্ভব! 

হ্যা সম্ভব। ইচ্ছা থাকলে কিনা হয়। এই যে দেখুন আমাগো পরধান মন্ত্রী, বিশ্ব ব্যাংকের টাকা ছাড়াই পদ্মাসেতু বানাইয়া দেখাইয়া দিছে, তিনি পর্মান কইরা দিছে আমরাও পারি! আমাদের গর্বের পদ্মাসেতু দেখতে অইলে একটু কষ্ট তো অইবই!

মোটরচালক আরোহী রঙ্গলালের দৃঢ়তা ও দেশাত্ববোধ দেখে অবাকই হলেন। এই খেটে খাওয়া মানুষটির মধ্যে কী আবেগ! কী দেশাত্মবোধ! তা না থাকলে কি হেঁটে কেউ পদ্মাসেতু দেখতে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারে!

মোটর সাইকেল আরোহী বিনয়ের সাথে রঙ্গলালকে অনুরোধ করলেন, আপনি আমার সাথে মোটর সাইকেলে চলুন।
রঙ্গলাল মনে মনে বলে, আপনের লগে গেলে তো ভাড়া দিতে অইব। আমি টাকা কই পামু! 

মোটরসাইকেল আরোহী রঙ্গলালকে আবার বলেন, কী ভাবছেন! আমার মোটর সাইকেল ভাড়ায় খাটেনা। আমি আপনার মতো পদ্মাসেতু দেখতে যাচ্ছি। চলুন, আমি আপনাকে নিয়ে যাবো।দু’জন গল্প করতে করতে পদ্মাসেতু দেখতে যাবো।

এবার রঙ্গলালের সাহস হয়। উঠে পড়লো মটরসাইকেল আরোহীর পিছনে। 
রঙ্গলাল অসম্ভব খুশি। মোটর সাইকেলে সে কখনো চড়েনি। আনন্দের শেষ নাই রঙ্গলালের।মোটর সাইকেল শাঁ শাঁ করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে মাওয়ার দিকে। রঙ্গলাল গুনগুন করে গান গায়, ওও...পদ্মারে! আবদুল আলীমের বিখ্যাত সেই পদ্মা নিয়ে গান।

মোটর সাইকেল আরোহী রঙ্গলালের কন্ঠের প্রশংসা করে বলে, আপনার গলা তো খুব সুন্দর! গান করেন নাকি!
আরে না! আমি গানটান করিনা।

তাইলে এতো সুন্দর করে গাইছেন কেমনে?

পদ্মাসেতু দেখতে যামু। খুশিতে গাইতাছি। শুনে শুনে গায়ক আর কি!
মটর সাইকেলে বসে কথা বলতে বলতে ওরা পৌঁছে গেলো মাওয়া ঘাটে। 

মাওয়া ঘাটে মটর সাইকেলটি থামতেই রঙ্গলাল মটর সাইকেল থেকে নেমে ভোঁ দৌড় পদ্মার ব্রিজের দিকে। কিন্তু পদ্মার ব্রিজের কাছে যাওয়া গেলোনা। ঠিক পাশে লোকজনের ভিড়।লঞ্চ ঘাটে প্রচুর মানুষ দেখলো রঙ্গলাল। সবাই লঞ্চে উঠছে আর পদ্মার ব্রিজের কাছাকাছি গিয়ে পদ্মার উপর নির্মিত ৬ কিলোমিটারের দীর্ঘ সেতুটি পরম ভালোবাসায় চোখ বুলিয়ে দেখছে।

রঙ্গলাল লঞ্চঘাটে দাড়িয়ে আছে। এখান থেকে আবছা দেখা যাচ্ছে পদ্মাসেতু। তাতে কি মন ভরে! যারা পদ্মাসেতু কাছ থেকে দেখার জন্য আসছে। সবাই লঞ্চ ভাড়া করে  কাছে গিয়ে মনে ভরে দেখছে স্বপ্নে পদ্মসেতু। কিন্তু রঙ্গলালের পক্ষে তো সম্ভব নয়। যারা দেখতে যাচ্ছে সবাই ট্রলার ভাড়া করে যাচ্ছে। ট্রলার ভাড়া ১০০০ থেকে দু’হাজার টাক পর্যন্ত। 

খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় রঙ্গলাল।
রঙ্গলাল ভাবছে কি করা যায় এখন ! 

এমন সময়ে তার পাশে এসে দাড়ালো ৩ জন কিশোর। ওরা মাওয়ার পাশের একগ্রাম থেকে এসেছে পদ্মাসেতু দেখতে। ওরা এসেছে সেই সাতসকালে। এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পদ্মাসেতু দেখছে। যেন দুধের স্বাধ ঘোলে মেটানোর মতো।

রঙ্গলালের পরিচয় হয় সাথে কিশোরদের সাথে। কিশোরদের পরিচয় জানতে জানতে ভাব হয়ে যায় । তারপর ওদের নিয়ে একটি পরিকল্পনার ছক আঁটে রঙ্গলাল। কিভাবে পদ্মাসেতু দর্শনে যাওয়া যায়। লঞ্ছঘাট থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায় কিশোরদের নিয়ে রঙ্গলাল। কথা বলে বোঝা গেলো ওরা খুব সাহসী। নদী পাড়ের ছেলে। সাহস তো হবেই। 

তাদের কাছে জানতে চায় রঙ্গলাল। তোমরা কি সত্যি পদ্মাসেতু দেখবার যাইবা। ওরা সমস্বরে জবাব দেয় হ্যাঁ যামু। আপনে আমাদের লইয়া যাইবেন ?

রঙ্গলাল সম্মতি জানায়।সেতু পরিদর্শনে বুদ্ধি আঁটে!

হঠাৎ ঘাটের অদূরে বেশ কয়েকটি কলাগাছ চোখে পড়লো। সম্ভবত গাছগুলো উজান থেকে ভেসে আসছে।এই কলাগাছ নিয়ে পদ্মাসেতু দর্শনে যাবে এমন চিন্তাই রঙ্গলালের মাথায় ঘুরপাকা খায়।
কিশোরের দলের কাছে আবার জানতে চাইলো রঙ্গলাল, তোমরা কি সত্যি যেতে চাও পদ্মাসেতু দেখতে! ওরা হ্যাঁ হ্যাঁ বলে জবাব দিল! 

এবার রঙ্গলাল ওদের নিয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমে পড়ে। 

ঘাটের এখানে ওখানে পড়ে থাকা ছোট ছোট ছেড়া অব্যবহৃত রশি সংগ্রহ করে।কিশোরের দল সাহায্য করে রঙ্গলালকে। রশি দিয়ে কলাগাছগুলো শক্ত করে বাঁধে।তৈরি হয়ে গেলো কলাগাছের ভেলা। তিন কিশোরসহ রঙ্গলাল সেই ভেলায় চড়ে বসে। 

কিন্তু কিভাবে যাবে পদ্মাসেতুর কাছে। পদ্মায় যা স্রোত! ট্রলারগুলো স্রোতের টানে ভাটিতে ভেসে যেতে যেতে আবার উজানের পানি ঠেলে সামনে এগুয়।কিন্তু কলাগাছের ভেলা তো ইঞ্জিন চালায় না। ভেলা নিয়ে পদ্মাসেতু পরিদর্শন তো দুঃসাহস বটে!

এবার রঙ্গলালের নুতন বুদ্ধি। যেভাবে যেতে হবে পদ্মা পরিদর্শনে। আর ব্যর্থ হবার সুযোগ নেই। এবার একটি ট্রলারের পেছনে কলাগাছের ভেলা শক্ত করে বেঁধে দিল রঙ্গলাল। কিছুক্ষণ পর ট্রলার ছাড়লো পদ্মাসেতুর উদ্দেশ্যে। ঢেউয়ের তালে তালে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রলার। সেই সাথে কলাগাছের ভেলাও। ভেলায় ৪ আরোহী। রঙ্গলাল ও মাওয়ার ৩ দুরন্ত কিশোর। প্রায় এক ঘন্টা বিনা খরচায় বুদ্ধি দিয়ে রঙ্গলাল পদ্মসেতু পরিদর্শন শেষ করলো।

পদ্মাসেতু পরিদর্শন করে ট্রলারের সাথে কলাগাছের ভেলায় চড়া ৪ আরোহী আনন্দে শ্লোগান ধরলো এবার- দেখছি আমরা ‘পদ্মাসেতু’, বাংলাদেশের ‘পদ্মাসেতু’ গর্ব মোদের ‘পদ্মাসেতু’ মুন্সিগঞ্জের ‘পদ্মাসেতু’, ফরিদপুরের ‘পদ্মাসেতু’, মাদারীপুরের ‘পদ্মাসেতু’, শরিয়তপুরের ‘পদ্মাসেতু’, গোপালগঞ্জের ‘পদ্মাসেতু’, খুলনা জেলার ‘পদ্মাসেতু’,  বরিশাইল্যা ‘পদ্মাসেতু’, চাঁটগাঁইয়্যাদের ‘পদ্মাসেতু’, ঢাকাবাসির ‘পদ্মাসেতু’,।

ভেলার চার আরোহী আনন্দ করতে করতে শ্লোগান দিতে দিতে চলে আসে মাওয়া ঘাটে। 
এমন সময় পেছন থেকে রঙ্গলালের কান ধরে রাগতস্বরে এক লোক বলে উঠলেন, ওই মিয়া, শোলোগান দিছত্ ভালা হতা, তয় আমগো নাম ভুইল্যা গেছত কেরে।বেগ্গুনের নাম লইলি, আঙ্গো নাম নিছত্ না ক্যান?

অসহায়ের মতো রঙ্গলাল জবাব দেয়, হ হ ভাইজান ! ভুল অইয়া গ্যাছে। মাফ কইরা দ্যান। আর ভুল অইব না।কান ধরছি আর ভুল অইবনা। কানডা ছাড়েন আপনের নামে শোলোগান দিতাছি। রঙ্গলাল মিনতি করে কান ধরা লোকটার উদ্দেশ্যে বলে।

এবার লোকটার চাহিদা মতো শ্লোগান দিতে থাকে- আঙ্গো ভাইয়ের ‘পদ্মাসেতু’, নোয়াইখাইল্যা ‘পদ্মাসেতু’, হেনি জেলার ‘পদ্মাসেতু’ ‘পদ্মাসেতু’, আঙ্গো ভাইয়ের ‘পদ্মাসেতু’, আঙ্গো বোনের ‘পদ্মাসেতু’ শ্লোগান দিতে দিতে রঙ্গলাল ভোঁ দৌড় ঢাকার উদ্দেশ্যে।

পদ্মাসেতু পরিদর্শন শেষে পরম তৃপ্তির ঢেকুর তুলে রঙ্গলালের সাথে মাওয়া ঘাটের তিন কিশোরও বাড়ি ফিরলো। 

লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) 

পাঠকের মন্তব্য