আবারও সরব 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' 

আবারও সরব 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' 

আবারও সরব 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' 

মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' এর আয়োজনে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে মাস্টার প্লান না থাকা ও অংশীজনদের মতামত অগ্রাহ্য করার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়।

'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর গত ৩০ মে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থপতি আহসান উল্লাহ মজুমদার জানান ১৪৪৫ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কোন মাস্টার প্ল্যান নেই। এই তিন বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রকল্প অফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও দেশের মানুষের সাথে ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার ও প্রতারণা করছে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে মাস্টারপ্লান প্রকাশ না করে এবং অংশীজনদের মতামত অগ্রাহ্য করে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতারণা ও  স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ।

এসময় বিবৃতিতে বলা হয়, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যানের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও জাবিতে নেই কোন মাস্টারপ্ল্যান। এত বড় বাজেটের প্রকল্পের কোনো মাস্টারপ্ল্যান না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি বিনাশ করে ও অংশীজনদের মতামতকে উপেক্ষা করে তাড়াহুড়ো ও লুকোচুরি করে যত্রতত্র ভবন নির্মাণের পাঁয়তারার কারণ ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, লুটপাট ও দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রাখা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রয়োজনীয় অসংখ্য বহুতল নির্মাণে তাড়াহুড়া দেখা গেলেও এসব ভবন থেকে উৎপাদিত বর্জ্য যথাযথ উপায়ে নিষ্কাষণের কোন ব্যবস্থা বর্তমান প্রকল্পে নেই। দুটি রেজিস্ট্রার ভবন থাকা সত্ত্বেও ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করে আরও একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করার তোড়জোর দেখতে পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনটি পূর্ণাঙ্গ করলে প্রশাসনিক কাজের নতুন ভবনের কোনো প্রয়োজন হবার কথা নয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন না ভেঙে আশপাশে অবস্থিত বৃক্ষরাজি নিধন করে নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক ভবন ভাঙবার ব্যাপারে অনীহা থাকলেও আরও দীর্ঘ বছর ব্যবহার উপযোগী লাইব্রেরী ভবনটি গুড়িয়ে দিয়ে সেই স্থানে নতুন ভবন নির্মাণে প্রশাসন খুবই আগ্রহী।

এসময় আয়োজকবৃন্দ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নির্মিতব্য বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপারে ৫ টি দাবির কথা জানায়। দাবিসমূহ হলো- বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে মাস্টারপ্লান প্রণয়ন, ১৩৭ কোটি টাকা খরচে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ না করে ক্লাসরুম সঙ্কটে থাকা অনুষদ ও বিভাগের জন্য একাডেমিক ভবন নির্মাণ করতে হবে, বর্তমান লাইব্রেরী ভবন সস্থানে রেখে নতুন লাইব্রেরী ভবন নির্মাণ করতে হবে, শিক্ষকদের ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক ভবনসমূহ ভেঙে সেই স্থানে শিক্ষকদের বেতনকাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে এবং সকল দল-মতের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠন করে প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা, কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি প্রকল্প অফিস থেকে তদারকি কমিটিকে অবহিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, 'এটি মাস্টারপ্ল্যান নয়৷ মাস্টারপ্ল্যানের কোন শর্তই মানা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করতে হলে সাংস্কৃতিক, একাডেমিক পরিবেশ ঠিক রেখে করতে হবে। একজন মাস্টারপ্ল্যানারের কাজ হলো সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করা। সে বিবেচনায় এটা শুধু এটা একটি প্রকল্প মাত্র।' 
তিনি আরও বলেন, '১৪৪৫ কোটি টাকার কাজে মাস্টারপ্ল্যান না থাকা সামগ্রিকভাবে একটা অপরিকল্পনার ফল। এভাবে চলতে থাকলে অনেক ভবন অব্যবহৃত পড়ে থাকবে৷ তারা পারতেন প্ল্যানারদের দিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে। তাদের মূল উদ্দেশ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, প্রকল্পের টাকা খরচ করা।

ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনিছা পারভীন বলেন, 'তারা নিজেরাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছে। আইন বিভাগ, তুলনামূলক সাহিত্য ইন্সটিটিউট, বিবিএ সংস্কারের জন্যই তো বাজেট আনা যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম এর বেহাল দশা৷ সেগুলোর দিকে না তাকিয়ে প্রশাসনিক ভবন করছে৷ তারা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভাবেই না। তাদের কোন ধারণা নেই। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যানের থেকে ইজারা,লিজ নিয়ে বেশি চিন্তিত" 

সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট্র, ছাত্র ইউনিয়ন, সাংস্কৃতির জোট সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য