বন বিট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিছেন আওয়ামী লীগ নেতা !

বন বিট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিছেন আওয়ামী লীগ নেতা

বন বিট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিছেন আওয়ামী লীগ নেতা

পটুয়াখালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নে অবৈধভাবে চরের (ম্যানগ্রোভ) বনের মাছের বিট দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন আ. সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান ও ওয়াহিদ খান রাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে , চর মোন্তাজ ইউনিয়নের ফরেস্ট ক্যাম্প অধিনস্থ বাগানের খালে মাছ শিকার করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

সম্প্রতি জানা যায়, ওই ইউনিয়নের চর-বেষ্টিন বাগানখাল, সোনার চরের বাগানের খাল, নয়ার চর বাগান খাল এবং বাইলাবুনিয়া সুলিজ দখল করে বিভিন্ন লোকের কাজ থেকে প্রায় বিষ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আ. নেতা রাসেল খান ও ওয়াহিদ খান রাজ। 

স্থানীয় জেলে শাহিন শরীফ ও মামুন সিকদার বলেন, চরমোন্তাজ ইউনিয়ন আ. লীগের পোষ্ট পাওয়ার সাথে সাথে চর, খাল, সুলিজ টাকার বিনিময় ডাক দেওয়া শুরু করেছে। টাকা দিতে না পারলে বনে মাছ ধরা নিষেধ। যেসকল লোক টাকা দিয়েছে তারা খালে মাছ ধরার জন্য আড়াআড়িভাবে মাটির বাঁধ দিয়েছে। মাছ ধরতে ছিটানো হয়েছে কীটনাশক। ফলে খালের পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, চর-বেষ্টিন ও সোনার চরের বনের এই খালে আড়াআড়িভাবে দেওয়া হয়েছে মাটির বাঁধ। 

এছাড়াও বন বিভাগ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) ৫টি বনের কমপক্ষে ৩০টি খালে বাঁধ দিয়ে অবাধে মাছ শিকার চলছে। দ্রুত মাছ ধরতে অনেকে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। মাছ ব্যবসায়ীদের এমন অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে সোনার চরের বাগানের খাল, নয়ার চর বাগানের পাঁচটি খালে মাটির তৈরি একাধিক বাঁধ দেখা গেছে। তবে বাঁধের এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁরা বলছেন, নদী ও খালের সংযোগস্থলে বাঁধগুলো দিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। এক মাস ধরে এভাবে বাঁধ দেওয়া ও মাছ ধরা চলছে। এভাবে অবাধে মাছ ধরায় ক্ষতির মুখে পড়ছে শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) বন। ঝুঁকিতে পড়ছে বনের পশুপাখি ও জীববৈচিত্র। 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও বনায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান বলেন, 'শ্বাসমূলীয় বনের ভেতরের খালগুলোতে জোয়ার-ভাটার প্রয়োজন রয়েছে। খালগুলোতে বাঁধ দিলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হবে। সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেললে গাছের শ্বাসমূল পানি পাবে না। বনের গাছও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। তাই কোনোভাবেই বনের খালে বাঁধ দেওয়া যাবে না'।

চরমোন্তাজ রেঞ্জের বিট অফিসার মোঃ হায়দার বলেন, 'চর বেষ্টিন বাগানখাল, সোনার চরের বাগানের খাল, নয়ার চর বাগানসহ দ্বীপচরে বন বিভাগের শ্বাসমূলীয় বন রয়েছে। বঙ্গপসাগরের মোহনায় এই দ্বীপচরগুলো জেঁগে উঠেছে। এখানে সংরক্ষিত বনও আছে। ছয়টি চরের বনের আয়তন প্রায় ১৫ হাজার একর'।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান,৷ চলতি বছরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের আ. সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান ও ওয়াহিদ খান রাজের প্রতিটি বনে মাছ ধরার জন্য পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা দিতে হয়েছে। সেচ দিয়ে মাছ ধরতে সময় ও অনেক টাকা খরচ হয়। তাই মাছ ধরার জন্য জেলেরা কীটনাশক ব্যবহার করে কম খরচে দ্রুত সময়ে খাল থেকে মাছ ধরে নেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চরমোন্তাজ আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, টাকার বিনিময় বন বিট দিয়েছি এটা মিথ্যা কথা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমরা কোন বন বিট দেই না বন বিভাগ থেকে এ বছর মাছ ধরার অনুমতি দিতে পারে।

পাঠকের মন্তব্য