প্রথমবারের মতো হয়ে গেলো ডিজিটাল জনশুমারি 

প্রথমবারের মতো হয়ে গেলো ডিজিটাল জনশুমারি 

প্রথমবারের মতো হয়ে গেলো ডিজিটাল জনশুমারি 

দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। করোনা মহামারি ও বিভিন্ন কারণে সারা দেশের ন্যায় কয়েক দফায় পেছানোর পর সপ্তাহব্যাপী ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’। সপ্তাহব্যাপী এ শুমারি ১৫ তারিখ শূরু হয়ে ২১ জুন সমাপ্ত হয়।

এটি দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি। দেশের মোট জনসংখ্যা কতো তা জানতেই মূলত রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ডসহ ভাসমান মানুষ গণনা, আর্থ-সামাজিক ও বাসগৃহসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু ডিজিটাল এ শুমারি সারাদেশে একযোগে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট ব্যবহার হয়েছে।

এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাজীপুর কালিয়াকৈরে স্থাপিত বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের টায়ার আইভি সিকিউরিটি সমৃদ্ধ ডেটা সেন্টা ব্যবহার করা হয়েছে। 

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল জনশুমারি সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের সব তথ্য দিতে পেরে ভোগান্তি বিহীন জনশুমারিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অপরদিকে স্বল্প সময়ে অনেক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করতে পেরে খুশি শুমারিকর্মীরা।

তথ্য প্রদান করার পর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মাষ্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জনশুমারি, এত অল্প সময়ে সব তথ্যগুলো দিতে পারব ভাবতে পারিনি। পরিবারের সবার তথ্য অল্প সময়ের মধ্যেই কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই সংগ্রহ করে নিয়েছেন তারা।   

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সমাজসেবি রুবিনা আক্তার বলেন, এর আগে কয়েকবার জনশুমারিতে তথ্য দিয়েছি। তথ্যগুলোতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যেত। আর নানা ধরনের কাগজ লাগত। এবার মাত্র কয়েক মিনিটে সব ধরনের তথ্য দিয়েছি। কোন  প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই।

তথ্য সংগ্রহকারী শুমারিকর্মীরা জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমরা তথ্য সংগ্রহ  করেছি। কোনো প্রকার ভোগান্তি ও ঝামেলা ছাড়াই স্বল্প সময়ের মধ্যে সব তথ্য অন্তরভূক্ত করতে পেরেছি। এতে সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা হয়নি। আমরাও কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হইনি। 

শুমারিকর্মী সারমিন আক্তার বলেন, জনশুমারি করার আগে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কীভাবে ডিজিটাল ডিভাইসে তথ্য যুক্ত করবো তা শেখানো হয়েছে। এবার খুব সহজে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে তথ্য যোগ করতে পেরেছি। 

ঠাকুরগাঁও জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু সালেহ মো. রব্বানী বলেন, চলমান জনশুমারিতে ঠাকুরগাঁও জেলায় আমাদের ৩৪৭৮ টি  ডিভাইস ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুরো জেলাজুড়ে আমাদের ৩৪৭৮ জন শুমারিকর্মী, ৬০৪ জন সুপারভাইজার ও ৩৫ জন জোনাল অফিসার ও ৩৫ জন আইটি সুপারভাইজার কাজ  করেছেন। এবারই প্রথম ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জনশুমারি হয়েছে। 

কোনো ঝামেলা ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। শুমারিকর্মী, সুপারভাইজার, জোনাল অফিসার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতায় ঠাকুরগাওয়ে আমাদের শুমারিকাজ সম্পন্ন হয়েছে, এছারাও যেন কেই বাদ না পরে তাই আমরা ২৩ জুন র্পযন্ত তা র্পযবেক্ষন করবো। শুমারিকাজে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জেলার সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য