সংলাপের দ্বিতীয় দিনে সিইসি

'নির্বাচনের নামে নাটক মঞ্চস্থ হোক সেটা চাই না'

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)

রাজনৈতিক দলসমুহের সাথে সংলাপের দ্বিতীয় দিনে এসে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আজ হতাশার সুরে বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ইসি একটা সংকটে পড়ে গেছে। একটি বড় দল বলছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। আরেকটি দল বলছে, নির্বাচন হবে। এ নিয়ে সংকটে পড়ে গেছে ইসি।

আজ (সোমবার) নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার হতে হবে। সেখানে নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই। নির্বাচন যদি নির্বাচন না হয়, নির্বাচনের নামে নাটক মঞ্চস্থ হোক, সেটা আমরা কখনও চাইব না। আপনারাও চাইবেন না।

সিইসি বলেন ‘আমরাও মনে করি, বিএনপি যদি এই নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে আমাদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্য সফল হবে না। নির্বাচন হয়তো আমরা করব।’

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নতুন কোনো ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসে তাতে ইসির কোনো আপত্তি থাকতে পারে না। আমরা চাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। অনুকূল পরিবেশ ও সমতল ভিত্তি তৈরি করতে চাই। একটি জবাবদিহিমূলক দায়িত্বশীল সংসদ দরকার।

সিইসি বলেন, আমাদের কোনও অনুরাগ-বিরাগ নেই। আমাদের একটাই কাজ, ভোটাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দিতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে ভোটারদের বাধা দেওয়া হলে, সেটি জানতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা অবশ্যই সচেষ্ট হবো।

নির্বাচন কমিশনের অনেক ক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে হয়তো কোনও কারণে সেই ক্ষমতা পুরোপুরি প্রয়োগ করতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেটি প্রয়োগ করার চেষ্টা করবো।

আগামী দ্বাদশ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া সংলাপ চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। সংলাপে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে ২ ঘণ্টা করে এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক ঘণ্টা করে বৈঠক করবে ইসি।

আজকের সংলাপে উপস্থিত থেকে ইসলামী ফ্রন্টের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসির কাছে ১০টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য