ঘরের আশায় দ্বারে দ্বারে; ঘর পায়নি প্রতিবন্ধী মোকছেদুল

 প্রতিবন্ধী মোকছেদুলের পরিবার

প্রতিবন্ধী মোকছেদুলের পরিবার

আমারতো ঘর নাই, কষ্ট করছি ৩ মেয়ে নিয়ে। মানুষের বাড়িতে সুইপারের কাজ করে খাই, বৃষ্টিতে ভিজে ভাঙ্গা এই ছাপড়ায় থাকি। কত মানুষের কাছে গেলাম একটা ঘরের আশায় দিনের পর দিন ঘুরলাম, সবাই আশা দিয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা ঘর পেলাম না। মনের দুঃখ নিয়ে অসহায় প্রতিবন্ধী মোকছেদুল মোল্লা (৩৩) কথা গুলো বলছিলেন।

বাঁশ, টিন-কাঠ আর পলিথিনে মোড়ানো জরাজীর্ন এক ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রতিবন্ধী মোকছেদ মোল্লা। পেশায় একজন সুইপার হওয়ায় মানুষের বাড়িতে টয়লেট পরিস্কার করেই চলে জীবিকা নির্বাহ। কোন রকম খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন পরিবার নিয়ে। মোকছেদ এর একটি পা বিকলাঙ্গ হওয়ায় চলাফেরা করতে পারে না স্বাভাবিক ভাবে। মাথা গোঁজার ঠাই না থাকায় রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে ৩ শিশু কন্যা ও স্ত্রী নিয়ে ভাঙা, জরাজীর্ণী ছাপড়ায় কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের বহুটি বছর। একটি ঘরের আশায় বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন দুইটি বছর ধরে। সবাই আশা দিয়েছে, ঘরের তালিকায় নাম এসেছে বলেছে কিন্তু আজ পর্যন্ত পায়নি ঘর। মোকছেদুল এর এখন একটাই চাওয়া যেখানেই হোক সরকারি একটা ঘরের ব্যবস্থা যেনো করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মৃত. ইসহাক মোল্লার ছেলে মো. মোকছেদুল। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরের আশায় গত বছর ওয়ার্ড মেম্বার এর হাতে পায়ে ধরে তার মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারে তার বউ জয়নব বিবির নামে ঘর পাস হয়েছে। একটি তালিকাও দেখান মোকছেদুল যেখানে দেখা যায় তার স্ত্রী জয়নব বিবি পিতাঃ মন্নাত হাওলাদার এর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

মোকছেদের স্ত্রী জয়নব বিবি বলেন তার দুঃখের কথা। তিনি বলেন, "আমার স্বামী একজন সুইপার। কাজ পেলে করে না পেলে করে না। তার এক পা বিকলাঙ্গ প্রতিবন্ধী তাই কাজ করতে পারে না। কষ্ট করে তিন মেয়ে নিয়ে ভাঙ্গা ছাপড়ায় থাকি। বৃষ্টি নামলে ঘরের মধ্যে পানি ডুকে। আমি বাসা বাড়িতে কাজ করি। ঘর দেয়ার কথা ছিলো, চেয়ারম্যান বলছে তোমার নামে ঘর পাস হইছে। কিন্তু আজও পাইলাম না ঘর।" 

প্রতিবেশী মাসুদ খা বলেন, "মোকছেদুল সত্যিকার অর্থে একজন গরীব অসহায়। সে সবথেকে নিকৃষ্ট সুপারের কাজ করে এবং সে একজন পঙ্গু। তার ভাঙা জরাজীর্ণ ছাপড়ার ঘরের উপরে পলিথিন দেয়া। বৃষ্টিতে ঘরে থাকতে পারে না। প্রতিবন্ধী ও গরীব হওয়ায় অনেক আগেই সে ঘর পাওয়ার যোগ্য। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করি অতি দ্রুত যেনো এই গরীব ছেলেটা একটা ঘর পায়।"

অন্য এক প্রতিবেশী শাহআলম মোল্লা বলেন, এই ছেলে ঘর পাওয়ার যোগ্য। সে একজন পঙ্গু সুইপারের কাজ করে তিন মেয়ে নিয়ে কষ্টে আছে। গ্রামের মধ্যে সব চেয়ে গরীব ও অসহায় মোকছেদুল। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করি তার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়ার।

কলগাছিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রেফাউল জানান, মোকছেদুলের নামে ঘর পাস হয়ে আসছে কিন্তু সে আশ্রয়নের ঘরে যেতে রাজি না। তার বাড়িতে অল্প একটু জায়গা আছে সেখানে ঘর চায়। তাই অন্য আবেদন থেকে যারা আশ্রায়নে যেতে চায় তাদের ঘর দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর 'ক' শ্রেনীভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। সরকার বাড়ির জমিতে ঘর দিলে সে পাবে।

পাঠকের মন্তব্য