মাঠেই মোকাবিলা করার হুশিয়ারি 

'রাজপথে সরব হয়ে উঠলো আওয়ামী লীগ' 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধীদের মাঠে দেখে নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামী লীগও। বিরোধীদের একের পর এক কর্মসূচির মধ্যে এবার রাজপথে নেমেছে ক্ষমতাসীন দলটি। বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীতে দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করেছে। রাজপথের বিরোধীদল বিএনপিকে রাজনীতির মাঠেই মোকাবিলা করার হুশিয়ারি দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

আগস্টে মাস এলে শোকের কর্মসূচি ছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রম সচরাচর পালন করে না আওয়ামী লীগ। তবে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ মিছিলে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শোডাউন করেছে দলটি। এইদিন সকাল থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা এবং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে রাজধানীর মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট চত্ত্বর, কদম ফোয়ারা, প্রেস ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা আলাদা আলাদা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলগুলো বিভিন্ন সড়ক দিয়ে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছে। সরকারবিরোধী শক্তিগুলো যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ রাজপথ ভুলে গেছে। আর ছাড় দেওয়া হবে না। অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন।

সরকার বিরোধীদের হুশিয়ারী দিয়ে সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খেলা হবে সবাই প্রস্তুত থাকেন। খেলা হবে নির্বাচনে, খেলা হবে রাজপথে। ফখরুল সাহেব বলেন, আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে মাটি নেই। দেখেছেন? বঙ্গবন্ধুর মাজারে জনতার ঢল, সমাবেশে জনতার ঢল।

নেতা-কর্মীদেন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। বিএনপিকে হুশিয়ারী দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির রাজপথে দাড়ানোর ক্ষমতা নেই। কাদেরকে ভয় দেখান? আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে বাংলাভাইয়ের পেতাত্মা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থলুট করে বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।

দলের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো আসবে না, আসতে দেওয়া হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলে যারা সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের মোকাবিলায় দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই সরকারের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে ।

দলের যুগ্মা সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী রাজপথে নেমে এসেছে। যেকোন মূল্যে উন্নয়ন অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ। আর যারা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের সমূলে উৎপাটন করা হবে।

সমাবেশে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের রাজপথ থেকে বিতাড়িত করতে আজ থেকে নামলো আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপি লাফাচ্ছে; তাদের লাফানো পুকুরে ব্যাঙের মতো।

বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যে দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা আমৃত্যু যেকোন অপশক্তির বিরুদ্ধে, যেকোন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোন অগ্নিসন্ত্রাসী, বোমাবাজদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের শান্তি সমৃদ্ধি অক্ষুন্ন রাখার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়াই করে যাবো। দেশে কোন অশুভ, অগণতান্ত্রিক শক্তি বা যারাই স্বৈরাচারি শাসন কায়েম করার জন্য কোন ষড়যন্ত্র করবে তাদের সেই ষড়যন্ত্রের নীলনকশনা আমরা ভেঙ্গে দেব।

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, মৎসজীবী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা যোগ দেন।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

পাঠকের মন্তব্য