শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার্থে মহাবতার ভগবান রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই উপলক্ষে প্রতিবছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে পালন করা হয় জন্মাষ্টমী। তারি ধারাবাহিকতায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় লালমনিরহাট গোসলের সোসাইটি মন্দির থেকে শোভাযাত্রা ও আনন্দ র‌্যালীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। দিনটি পালনের জন্য শুক্রবার সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি উৎসবমূখর পরিবেশে শেষ হয়।

প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। অত্যাচারী ও অসুরদের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের রক্ষার লক্ষ্যে কংসের কারাগারে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনে তিনি ব্রতী ছিলেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ তাই ভগবানের আসনে অধিষ্ঠিত। অবতার হয়ে শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন মাতা দেবকীর গর্ভে।

সনাতন শাস্ত্র অনুসারে-দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করতেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিহীন পৃথিবীতে শান্তি আনতেই শান্তিদাতা শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব।

তার শিক্ষা হলো-অন্যায়কে পরাভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তার জন্মের সময় এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পাপ ও অরাজকতায় পরিপূর্ণ ছিল। নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ মানব জাতির কাছে জীবন ধারণের অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। ইতিহাসে তিনি যাদবকৃষ্ণ ও দর্শনশাস্ত্রে সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ কৃষ্ণ।

শ্রীমদ্ভগবত গীতায় তিনি অবতারকৃষ্ণ, দার্শনিক কৃষ্ণ, পুরুষোত্তম কৃষ্ণ। ঈশ্বরতত্ত্বের মহান প্রতীক শ্রীকৃষ্ণ বেদে ঋষিকৃষ্ণ, দেবতাকৃষ্ণ। মহাভারতে তিনি রাজর্ষি কৃষ্ণ, শাসক ও প্রজাপালক কৃষ্ণ, অত্যাচারী দমনে যোদ্ধাকৃষ্ণ। তার বাণী সমগ্র বিশ্বকে হাজার হাজার বছর ধরে আলোড়িত করছে।

এসময় লালমনিরহাট জেলা প্রসাশক আবু জাফর, শাখার পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি, হিরালাল চন্দ্র  রায় ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, এ্যাডঃ মতিয়ার রহমান, লালমনিরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজনসহ অনান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন। 

পাঠকের মন্তব্য