আগৈলঝাড়ায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই চলছে হাসপাতালের কাজ 

সরকারী ৫০শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সরকারী ৫০শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ার সরকারী ৫০শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন কাজে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুনের বাঁধা দেয়া সত্বেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। প্রকৌশলীরা কাজের সাইটেই আসেন না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রধান ডা. বখতিয়ার আল মামুন। 

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন তাদের কাজের অনিয়মে বাঁধা দিলেও প্রকৌশলী ও ঠিকাদার তা ভ্রুক্ষেপ না করে কাজের সিডিউলের বাইরে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ি নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসালাম কাজের সাইটে না আসায় ঠিকাদার অনিয়মের চরম মাত্রায় পৌছেছে। ঠিকাদার সোহেল মিয়া সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে সাথে সাথেই তারা ফোন কেটে দেয়।
  
নিম্নমানের কাজের কারণে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিলেও কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছন স্থনীয়রাসহ ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক ভবন, চলাচলের রাস্তা, পুকুরের গাইড ওয়াল, সীমানা প্রাচীর নির্মানসহ বিভিন্ন সংস্কার কাছের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় ১ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করে। টেন্ডারে হাসপাতালের পুকুর পাইলিং বাবদ ৩৩ লাখ টাকা, রাস্তা সংস্কার বাবদ ১৬ লাখ টাকা, আসাসিক ভবনের ছাদ সংস্কার বাবদ ২৬ লাখ টাকা এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বাবদ ১৬ লাখ টাকাসহ অন্যান্য কাজের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

টেন্ডারে বরিশালের সোহেল মিয়া নামের এক ঠিকাদার কার্যাদেশ পেয়ে জুলাই মাসে কাজ শুরু করে। পুকুরের গাইড ওয়ালে শুধুমাত্র পাথর দিয়ে স্লাব বানানোর কথা থাকলে কাজের শুরুতেই তারা পাথরের সাথে ইটের খোয়া ব্যবহার করে কাজ শুরু করে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক চারটি ভবনের একটিতে রড ছাড়াই ছাদ ঢালাই দেয়। এই কাজে হাসপাতাল প্রধান বাঁধা দিলে পরবর্তিতে অন্য তিনটি ভবনের ছাদে রড ব্যবহার করতে বাধ্য হয় ঠিকাদার। হাসপাতালের সামনের বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে সেই পুরান ইট দিয়েই নতুন করে ওয়াল নির্মান করে আসছে ঠিকাদার। এমনকি পুরানো ঢালাই পিলার সম্পূর্ণ না ভেঙ্গে ওই পিলারের অংশ ভেঙ্গে সেই পিলারের রডের সাথেই প্রকৌশলীর সহযোগীতায় নতুন করে ঢালাই সম্পন্ন করেছে ঠিকাদার। কাজের বিভিন্নস্থানে পুরাতন মরিচা ধরা রড ব্যবহার করারও অভিযোাগ রয়েছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

ঠিকাদার সোহেল মিয়া জানান, শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, নিম্নমানের কাজে তাদের বাঁধা দিলেও তার কথা উপেক্ষা করে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজের সময় সাইটে আসেন না প্রকৌশলী এমন অভিযোগ করে একটি ভবনের ছাদে রড ছাড়াই ঢালাই দেয়ার কথাও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার সোহেল মিয়ার (০১৭১৭৮৬৭১৮৬) নম্বরে ফোন দিলে তিনি কোন তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম তার অনুপস্থিতিতে একটি ভবনে রড ছাড়াই ঢালাই দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি সাইট পরিদর্শনে এসে সকল অনিয়মগুলোর সমাধান করেছেন বলে জানান। পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়ার ঢালাই দেয়া হলে তা ভেঙ্গে দেখে ওই কাজের বিল তিনি দেবেন না বলেও জানান।
 
নির্বাহী প্রকৌশলী (০১৭১২০৫১০৪৮) নম্বরে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঠকের মন্তব্য