রংপুরের ভিন্ন জগৎকে আধুনিকায়নের দাবী রংপুর সদর বাসীর 

বিনোদন কেন্দ্র ভিন্ন জগৎ

বিনোদন কেন্দ্র ভিন্ন জগৎ

এ এস নুসরাত জাহান খুশি, রংপুর : রংপুর জেলার সদর উপজেলাধন ৫নং খলেয়া ইউনিয়নে আবস্থিত ভিন্ন জগৎ নামক  একটি দর্শনীয় স্থান। এটি  ২০০১ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে চালু করা হয়েছে, বেসরকারি ভাবে প্রায় ১০০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে এই বিনোদন কেন্দ্রটি, এটি রংপুরের সবচেয়ে বড় পিকনিক স্পট ও পর্যটন কেন্দ্র। 

এখানে রয়েছে  দেশের  একমাত্র  প্রথম প্ল্যানেটরিয়াম, প্ল্যানেটরিয়াম ঢোকার পর আপনি হারিয়ে  যাবেন গ্রহ নক্ষত্রের দেশে, ছায়া ঢাকা ও পাখির ডাকা একটি গ্রামের মতোই পরিবেশ এই ভিন্ন জগৎ এর।  

এখানে চিত্ত বিনোদনের জন্য রয়েছে  নানা আয়োজন, রয়েছে রোবট, স্পিড বোট, স্পিড জার্নি, জল তরঙ্গ, সি প্যাড়াডাইস, আজব গুহা, নৌকা ভ্রমণ, শাপলা চত্বর, বীর শ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদেও  ভাস্কর্য। সুইমিং পুল, এছাড়াও রয়েছে  ড্রিম প্যালেশ, গেষ্ট হাউস, শিশু দের জন্য রয়েছে হাতি, ঘোড়া, জিরাফসহ নানা ধরনের প্রাণি এবং রাইড। এখানকার স্থানীয় কর্ম চারিদের থেকে জানা যায় সুস্ক মৌসুমে গড়ে  প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ভ্রমণ পিপাসুদের সমাহার ঘটে থাকে। এবং আয় করে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা, বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষা  সফর ও বিভিন্ন ধরনের  অফিস কোম্পানির সফর এই ভিন্ন জগৎ, এই ভিন্ন জগৎের মালিকের নাম মোস্তফা কামাল, মোস্তাফা কামাল একজন নোয়াখালীর বাসিন্দা, তার  ছেলের নাম  তৌফিক হাসান৷ মোস্তফা কামাল তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন এই ভিন্ন জগৎ। ভিন্ন জগৎ শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য নয় এখানে রয়েছে শিক্ষনিয় অনেক কিছু।

দিনাজপুর থেকে আসা  লিমন সরকার জানান, আসলে আমি সব সময় বন্ধুদেও কাছ থেকে ভিন্ন জগৎ এর গল্প শুনেছি। 
আসলে কখন আসা হয়নি। আজ এসে আমি অনেক আনন্দিত এখানে এসে। আসলে প্রত্যান্ত গ্রামেই এমন একটি বিনোদন কেন্দ্র আছে আসলে ভাবতেই অবাক লাগছে। তিনি আরো জানা, এখানে অনকে রাইটস আছে আরো যদি কিছু যুক্ত করা যায় তাহলে তারো ভাল হবে বলে আমি মনে করছি। এখানে শিশুদের জন্য আলাদা একটি পার্ক বা শিশুদের জন্য আরো কিছু রাইট সংযুক্ত করার দাবী রাখছি কৃর্তৃপক্ষ এর কাছে।

বাবা মায়ের সাথে ঘুড়তে আশা অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলেন, আমার নাম তামান্না। আমি আমার বাবার মায়ের সাথে এখানে ঘুড়তে এসেছি। আমাকে খুব ভাল গালছে এসে। এখানে আরো কিছু রাইট সংযুক্ত করলে আরো বেশী ভাল লাগবে বলে দাবী করেই এই কমলমতি শিক্ষার্থী। 
  
রংপুর জেলার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুর নাহার বেগম বলেন, এটি আরও সুন্দর ও উন্নত হোক এটাই কামনা করি আর যদি তারা ট্যুরিজম বোর্ড বা সরকারের কাছে কোনো সহোযোগিতায় চায় তাহলে অবশ্যই  সহোযোগিতা করবো  যদি ও বা এটি একটি ব্যাক্তির মালিকানাধীন তার পরেও  সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহোযোগিতার হাত বারিয়ে দিব, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন দিবস।

রংপুর জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান  মোছাঃ নাসিমা জামান (ববি) বলেন, যে ভিন্নজগৎ রংপুর বাসির জন্য খুব ভালো একটা বিনোদনের জায়গা, প্রত্যেক মানুষের মানসিক  আনন্দ হচ্ছে মনের খোরাক, এটি পরিবেশ আরও সুন্দর, উন্নত হোক এটাই কামনা করি। এটা  শুধু চিত্ত বিনোদনের জন্য নয় এখানে রয়েছে অনেক শিক্ষণীয় বিষয়, শিশু দের জন্য রয়েছে নানান রকম পশু-পাখি। তবে সরকারি পৃষ্ঠ-পোষকতায় হোক। যদিও বা এটি ব্যক্তির মালিকানাধীন আর  না হয় তারা নিজেরাই করুক  এটি আরও সুন্দর  ও উন্নত  হোক এটাই কামনা করি।

রংপুর জেলা প্রশাসক আহসান হাবিব জানান যদি ও বা এটি ব্যক্তির মালিকানাধীন, যেহেতু সরকার পর্যটন শিল্পকে সহোযোগিতা করেন, সেক্ষেত্রে আইন–শৃঙ্খলা  বা যে কোনো সহোযোগিতা করে থাকি, সে ক্ষেত্রে  যদি  জেলা প্রশাসকের  পক্ষ থেকে কোনো সহোযোগিতা চাওয়া  হয় সেটা অব্শ্যই জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দেয়া হবে বা করা হবে।

এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  মোঃ মোত্তালেবুল বলেন, এই যান্ত্রিক পরিবেশে আমাদের নিঃস্বাস  নেয়ার মত জায়গা নেই, সে জন্য এই মনোরম পরিবেশের দরকার শুধু তাই নয় এখানে রয়েছে শিক্ষানিয় বিষয়  রয়েছে। এই জায়গা টা আরও  সুন্দর উন্নত করে গড়ে তোলা জন্য উর্ধ্ব কর্মকর্তাসহ কৃর্তৃপক্ষ এর কাছে দাবী করছি। তবে এলাকাবাসি ও এলাকার শিক্ষীত মহলসহ রাজনীতিবীদ এর দাবী যেহেতু এটি ব্যক্তি মালিকাধীন তাই কৃর্তৃপক্ষ ও সরকার সম্মনয়ে এর উন্নয়ন সহ আধুনিকায়ন করার জন্য দাবী করেন।

পাঠকের মন্তব্য