কুবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্যের লড়াই অস্ত্রের মহড়া

কুবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্যের লড়াই অস্ত্রের মহড়া

কুবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্যের লড়াই অস্ত্রের মহড়া

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি (ইলিয়াস-মাজেদ) বিলুপ্তির পর প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহির পক্ষে ক্যাম্পাসে শোডাউন ও বাজি ফুটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে ছাত্রলীগের এক পক্ষ ও স্থানীয়রা। এরপর সদ্য বিদায়ী কমিটির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রক্টর-পুলিশের সামনেই পাল্টা মহরা দেয়। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকাল ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, রেজা-ই-এলাহির পক্ষে কুবি শিক্ষার্থী ও বহিরাগত মিলে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেয়। এসময় তারা বাজি ফুটিয়ে বেশ আতঙ্কও তৈরি করে। তবে এসময় তাদের হাতে কোনো অস্ত্র দেখা যায়নি। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে তারা মোটর সাইকেল নিয়ে এসে দাঁড়ায়, এসময় বেশ কয়েকজন বাশ ও লাঠি হাতে নেয়। পাশাপাশি হলের সামনে বাজি ফুটায়।

মোটরসাইকেল শোডাউনের পর সদ্য বিদায়ী কমিটির নেতা-কর্মীরা হল থেকে রামদা, লাঠি, রডসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে আসে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ প্রক্টরিয়াল বডির অন্যান্য সদস্য আসলে মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুত চলে যায়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি মূল ফটকে পুলিশ মোতায়েন করেন। 

এসময় বিদায়ী কমিটির নেতাকর্মীদের কয়েকজনকে প্রক্টর এবং পুলিশের সামনেই রাম দা হাতে প্রকাশ্যে হাটাহাটি ও প্রক্টরের সাথে তর্ক করতে দেখা যায়।

এদিকে, এতগুলো মোটর সাইকেল ক্যাম্পাস এরিয়ায় ঢুকলো কিভাবে, এমন প্রশ্নে মূল ফটকে সে সময়ে দায়িত্বরত আনসার জালাল মিয়া বলেন, আমরা গেটেই ছিলাম। তারা নিজেরাই গেট খুলে ঢুকে গিয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক কমিটির নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ক্যাম্পাসে হল দখল করতে এবং শিক্ষার্থীদের  আতঙ্কিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ছাত্রলীগের একটি পক্ষ এমন কাজ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আগামী কমিটিতে পদপ্রত্যাশী রেজা-ই-ইলাহী এ ব্যাপারে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল দিয়েছে। আমাদের কারো হাতে কোনো অস্ত্র ছিলনা। আমরা কাউকে আতংকিতও করিনি। বরং অন্যরাই পরবর্তীতে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেরায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, এই ঘটনা নিয়ে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও অন্যান্য হলের প্রভোস্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছি। উপাচার্য মহোদয় ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায় দেখছি।

পাঠকের মন্তব্য