কাজ আগামী ডিসেম্বরে শুরু

এবার আসছে পাতাল রেল ! 

এবার আসছে পাতাল রেল ! 

এবার আসছে পাতাল রেল ! 

দেখতে দেখতে মেট্রোরেল মাথা তুলে দাঁড়িয়ে গেছে। দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এ রেল চলা শুরু করবে ডিসেম্বরে। এবার আসছে পাতাল রেল। প্রকল্পের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশের প্রথম এই পাতাল মেট্রোরেলের কাজ আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে ডিপোর জন্য ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবহন খাতের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এর কাজ শেষ করার সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর।

প্রকল্পটি চালু হলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে প্রায় ২৫ মিনিট, নতুনবাজার থেকে পূর্বাচলে ২০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড এবং কমলাপুর থেকে পূর্বাচলে ৪০ মিনিট। ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে যুক্ত করতে মেট্রোরেল লাইন-৫-এর আওতায় ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাতাল রেল এবং ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এলিভেটেড রেললাইন করা হবে।

৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার জোগান দেবে জাপান সরকার। এর মধ্যে ৪৩তম ইয়েন ঋণচুক্তির আওতায় ১৩ হাজার ৩৩৯ কোটি ৯০ লাখ ইয়েন বা ৯ হাজার ২০৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণ পাবে বাংলাদেশ।

মেট্রোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালনা পর্ষদ গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিপোর উন্নয়নে একটি জাপানি কোম্পানির নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে (প্যাকেজ-১)।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফার্মের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হবে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকল্পের সিভিল কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। (প্যাকেজ-১-এর জন্য) চুক্তির পর আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠানের জন্য সময় চাইব। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ নির্মাণ তত্ত্বাবধানের জন্য আগামী ২৩ অক্টোবর আরেকটি জাপানি কোম্পানির নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-১ বা এমআরটি-১ নামে পরিচিত এই লাইনটির কাজ শেষ হলে, দৈনিক ৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার লাইনটির ২টি অংশ থাকবে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর (বিমানবন্দর রুট) পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ হবে এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল (পূর্বাচল রুট) পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়াল।

বিমানবন্দর রুটে ১২টি স্টেশন থাকবে এবং পূর্বাচল রুটে ৯টি স্টেশন থাকবে। পূর্বাচল রুটের নর্দা ও নতুনবাজার স্টেশন থাকবে ভূগর্ভে এবং এই দুটি স্টেশন যাত্রীদের রুট পরিবর্তনের জন্য একটি ইন্টারচেঞ্জ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্প নথি অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর ও ভাটারার মধ্যে চলাচলকারী মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর রুট) নতুনবাজার স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ করবে। যানজট ও দূষণ নিরসনে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য ছয়টি লাইনের মধ্যে দ্বিতীয় হবে এমআরটি-১। হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী-মিরপুর ১০-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান-২ হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এই মেট্রোরেল পথের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার হবে এলিভেটেড, বাকি সাড়ে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল। 

এই মেট্রোরেলের পথে ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ৯টি স্টেশন হবে মাটির নিচে। আর বাকি পাঁচটি স্টেশন থাকবে মাটির ওপরে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই রুটটি চালু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য