কক্সবাজারের উখিয়ায় গৃহবধূকে অপহরণ; থানায় অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় গৃহবধূকে অপহরণ; থানায় অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় গৃহবধূকে অপহরণ; থানায় অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ব্যাপারে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানা পুলিশ। 

গতকাল সোমবার সকালে উখিয়া থানাধীন পালংখালী ইউপিস্থ ৮নং ওয়ার্ডের অর্ন্তগত তাদিতলী রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।   

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে আব্দুল মজিদ (৩৫), নেতৃত্বে মোঃ শাহীন (২০) আব্দুল হাকিম (১৯) মোঃ কালু (৪০) ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন এই ঘটনা সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, বিগত ২০১৬ সালে শামশুন নাহার বোনের সহিত আব্দুল মজিদ এর সঙ্গে শরীয়ত মোতাবেক সামাজিক ভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ে পরবর্তী কিছুদিন সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করলেও উক্ত বিবাদী আমার বোনের ভরন পোষন না দেওয়া ও পরনারীতে আসক্ত হওয়া, মাদকাসক্ত হওয়া এবং যৌতুকের দাবীতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা সহ আরো অন্যান্য বিষয়ের কারণে আমার বোন ভিকটিম আব্দুল মজিদকে কক্সবাজার নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে হাজির হইয়া গত ০৪/১০/২০১১ইং তারিখ ৮৬৫ নং রেজি যুক্ত নোটারী মূলে তালাকের ঘোষণা পত্র (স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাকের ঘোষনা পত্র) সহকারে বৈধ ভাবে তালাক প্রদান করে এবং ভিকটিম বাপের বাড়িতে বসবাস করে।

উক্ত কারণে বিবাদীরা ক্ষীপ্ত হয়ে আমার বোন ১নং সাক্ষীকে যখন যেখানে পাইবে অপহরন পূর্বক খুন করে লাশ গুম করিবে বলে হুমকি দিয়াছিল। 

এরই ঘটনার দিন ২১ তারিখ সকাল অনুমান ১১:৩০ ঘটিকার আমার বোন ১নং সাক্ষী ভিকটিম শামশুন নাহার ও আমার স্ত্রী ২নং সাক্ষী খুরশিদা আক্তার মা থাইংখালীস্থ আমাদের এক নিকট ত্মীয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থল উখিয়া থানাধীন পালংখালী ৮নং ওয়ার্ডের ভাদিতলী রাস্তার মাথায় পৌঁছিলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা উল্লেখিত বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন বিবাদী বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করে জোরপূর্বক আমার বোন ১নং সাক্ষীকে একটি অজ্ঞাত নাম্বারের সিএনজি গাড়ীতে তোলার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক টানা হেঁচড়া করলে সাথে থাকা আমার স্ত্রী ২নং সাক্ষী বিবাদীদেরকে বাঁধা নিষেধ করে। 

এই সময় বিবাদীগণ আমার স্ত্রী ২নং সাক্ষীকে এলোপাতাড়ী কিল, খুশি, লাথি মারিয়া মাথায়, পিঠে, কোমরে, তলপেটে, রানে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ফুলা জখম করে। এবং বিবাদী মোঃ শাহীন আমার স্ত্রী ২নং সাক্ষীর গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন মূল্য অনুমান ১,০৫,০০০/-টাকা টান দিয়া নিয়া ফেলে।  

এক পর্যায়ে বিবাদীগণ আমার বোন ১নং সাক্ষী কে জোরপূর্বক টানা হেঁচড়া করতঃ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করিয়া অজ্ঞাত নাম্বারের সিএনজি গাড়ীতে তুলে দ্রুত পালিয়ে যায়। 

ভিক্টিমের পরিবারের বলেন, উক্ত বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন বিবাদী আমার বোনকে খুন করার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক অপহরন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়া গেছে বলে তাদের দাবি।

এব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাদিম আলি জানান, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি।  অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য