রামনাবাদ নদের উপর ‘গলাচিপা সেতু’ একনেক সভায় অনুমোদন 

 মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদার

মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদার

উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরো একটি বড় পদক্ষেপে রামনাবাদ নদীর উপর নির্মিত হবে স্বপ্নের ‘গলাচিপা সেতু’। 

পটুয়াখালী ৩ আসনের (গলাচিপা-দশমিনা) মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বহুল কাঙ্ক্ষিত এ সেতু প্রকল্পটি মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক-এর সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

প্রকল্পে ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত দুই লেন বিশিষ্ট ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু অত্যাধুনিক ডিজাইনে নির্মাণ করা হবে। খুব শিঘ্রই অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে এর কাজ শুরু হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ৮ শতাংশ হারে সড়কটির যান চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এ সেতু নির্মাণ হলে বছরে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে।

সেতুটি লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা- আমড়াগাছিয়া সড়কের ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় সদর ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। 

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ৭ দশমিক ৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৬০০ মিটার নদী শাসন, ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার নতুন পেডমেন্ট নির্মাণ এবং একটি ব্রিজ টোল প্লাজা নির্মাণ। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে প্রকল্পটি পাশ হওয়ার খবরে উচ্ছাসে মেতে উঠেছে গলাচিপা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পটুয়াখালী ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।

গলাচিপা সেতু পাস হওয়ার খবরে পটুয়াখালী ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা তার ফেইসবুক আইডি থেকে এক স্টাটাসে জানান, 'আলহামদুলিল্লাহ ! আজ একনেক-এ গলাচিপা সেতু পাস হয়েছে। এজন্য গলাচিপার সকল মানুষকে অভিনন্দন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।'

জানা গেছে, সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদার প্রায় ৩ বছর নিরলস চেষ্টার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকের সভায় সেতুটির নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। এর আগেনআগস্ট মাসে ১৫ আগস্টের শোক সভার বক্তব্যে তিনি জানান, চলতি অর্থ বছরেই গলাচিপা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে। এরই লক্ষ্যে অক্টোবরে তার প্রচেষ্টায় রামনাবাদ নদীর উপরের সেতুর জায়গা পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ শামিমুজ্জামান। 

এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব তিনি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর সময় প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, পটুয়াখালী জেলার সদর ও বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, আমতলী উপজেলা নদীবেষ্টিত লেবুখালী -বাউফল- গলাচিপা- আমড়াগাছিয়া সড়কটি ঢাকা-মাওয়া- ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাগলা থেকে শুরু হয়েছে। এরপর বাউফল উপজেলার মধ্য দিয়ে দশমিনা, গলাচিপা হয়ে পটুয়াখালী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। 

সড়কটি বাউফল, দশমিনা উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা সদরে যাওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত পথ। বর্তমানে রাবনাবাদ নদীতে ফেরি সার্ভিস রয়েছে। নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে রাবনাবাদ চ্যানেলে দুই লেন বিশিষ্ট ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অনুসাঙ্গিক কর্যক্রম সম্পন্ন করে একনেকে স্বপ্নের গলাচিপা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পাশ হয়।

এই সেতু নির্মাণ করা হলে গলাচিপা-রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে, কষ্ট লাঘব হবে। উপজেলার মানুষের জীবন ধারন ও শিক্ষা দীক্ষার উন্নতি হবে। এখানকার মানুষের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নও হবে। এছাড়াও সেতুটি নির্মাণ হলে ওই এলাকায় শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। ফলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। ঢাকার সাথে একটি সরাসরি সড়ক পথে কানেক্টিভিটি তৈরি হবে।

পাঠকের মন্তব্য