জাতীয় সম্মেলন আজ; নতুন নেতৃত্বে আসতে আলোচনায় যারা

মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন

মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন

মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। আওয়ামী লীগের অন্যতম এই সহযোগী সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের শীর্ষ দুটি পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে দুই ডজনেরও বেশি নারীনেত্রী দৌড়ঝাঁপ করছেন। সেই সঙ্গে সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার মূল নেতৃত্ব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতেও তৎপরতায় নেমেছেন অনেক নেতা।

মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন আজ শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিও ঘোষণা করা হবে।

এবার সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর মহিলা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৪ মার্চ সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সাবেক এমপি সাফিয়া খাতুনকে সভাপতি ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম কৃককে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। এ ছাড়া সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরে সাবেক এমপি শাহিদা তারেক দীপ্তি সভাপতি ও শবনম শীলা সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সাবেরা বেগম সভাপতি ও নার্গিস রহমান সাধারণ সম্পাদক হন।

গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পরপর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার করোনা সংকটসহ নানা কারণে নির্ধারিত সম্মেলন হতে পারেনি। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় সংগঠনের নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা ছিল। এ অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের অন্য দুই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে মহিলা আওয়ামী লীগের তারিখ নির্ধারণ করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলনের মাধ্যমে তৎপর নতুন নেতৃত্বপ্রত্যাশীরাও। অনেকেই মূল দল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কেউ কেউ পোস্টার ছাপিয়ে অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিতে শুরু করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ পদ দুটিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও পছন্দের নেতাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সাফিয়া খাতুন আবারও একই পদে আসতে চাইছেন। সভাপতি পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃকও আসতে আগ্রহী। এ ছাড়া সভাপতি পদ পেতে বর্তমান সহসভাপতি আসমা জেরিন ঝুমু, বনশ্রী বিশ্বাস স্মৃতি কণা, আজিজা খানম কেয়া, শিরীন নাঈম পুনম, আলেয়া পারভীন রঞ্জু, নাসিমা ফেরদৌসী ও ফারহানা ডলি তৎপর রয়েছেন।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ১০ জন প্রার্থীর নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। তারা হচ্ছেন- বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রুকসানা, শিখা চক্রবর্তী, মীনা মালেক, জান্নাত আরা হেনরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আনারকলি পুতুল, রাজিয়া সুলতানা পান্না, নাসরিন সুলতানা, ঝর্ণা বাড়ৈ, ইসমত আরা হ্যাপী এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান সভাপতি শাহিদা তারেক দীপ্তি। 

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক নীলিমা আক্তার লিলি, দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরীন রোজী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. সেলিনা আখতার, সহপ্রচার সম্পাদক মেহের নিগার হোসেন তন্ময়, সহদপ্তর সম্পাদক সোহাইলা আফসানা ইকো এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহিদা চৌধুরী তন্বী।

এদিকে, সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে বর্তমান সভাপতি শাহিদা তারেক দীপ্তি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শবনম শীলাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সাবেরা বেগম সভাপতি ও নার্গিস রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এই চার নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলে সে ক্ষেত্রে নতুন মুখ আসতে পারে।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী সাফিয়া খাতুন জানান, সারাজীবন রাজনীতি করেছেন এবং সংগঠনের দায়িত্ব সঠিক ও সক্রিয়ভাবে পালন করে এসেছেন তিনি। নেত্রী চাইলে তিনি সভাপতি হবেন। একই বক্তব্য দিয়ে আরেক সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহমুদা বেগম কৃক বলেন, শেখ হাসিনা তাদের অভিভাবক ও সাংগঠনিক নেত্রী। 

তিনি যাকে যেভাবে ভালো মনে করবেন, তাঁকে সেভাবেই দায়িত্বে আনবেন।

পাঠকের মন্তব্য