স্মৃতির পাতায় জাপা'র বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব কুনু ভাই 

আবুল কাশেম রুমন, সম্পাদক সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট

আবুল কাশেম রুমন, সম্পাদক সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট

আবুল কাশেম রুমন : মানুষের জীবনের এক আশ্চর্য বাস্তবতা। প্রত্যেক মানুষেরই স্মৃতির পাতায় জমে থাকে অনেক না বলার কথা। অনেক ভালো লাগা, অনেক কষ্ট- বেদনা, সুখ-দুঃখ যন্ত্রণা সব সময়ই স্থান করে নেয় মানুষের স্মৃতির পাতায়। 

সবার জীবনই নানা স্মৃতিতে ভরপুর। আজ আমি এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে, যিনি আমাদের কাছ থেকে চলে গেছেন না ফেরার দেশে, তিনি হচ্ছেন সিলেটের রাজনৈতিক ও মিডিয়া অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব জাতীয় পার্টির বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব কুনু মিয়া। আমার সাথে দীর্ঘ প্রায় ২০ বা ২২ বছরে সম্পক,খুব বেশি মনে পড়ে তিনির সাথে চলা ফেরার অনেক স্মৃতির কথা। তিনি যেন এতো উদার মনের মানুষ ছিলেন যিনি তার কাছে গেছেন তিনি বুঝতে পেরেছেন। 

সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট নিয়ে তিনির সাথে দীর্ঘ বছর কাজ করেছি, যেন কোন সংকটময় মুহুতে তিনি ছিলেন বৈচিত্র্যময় সিলেটের পরিবারে সাথে ছায়া হয়ে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় বাংলাদেশ ২ বছর অবস্থান করছিলেন প্রায় সময় কাজের ফাঁকে সকাল কিংবা রাতে আড্ডা দিতাম তিনির সিটিং রুমে। কত যে রং বেরং এর আলাপ আলোচনা, রাজনীতি, পারিবারিক, সামাজিক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনির কথা ছিলো মজার-মজার। দিনের বেলার বাসায় গেলে দেখা যেত বেশির ভাগ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর বড়-বড় কর্তারা আসছেন অনুদানের জন্য, হাসি মুখে দিয়েছেন অনুদান। তিনির সহযোগীতায় অনেক মাদ্রাসা ও স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছেন। বিশেষ করে গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ছিলেন একজন অভিভাবক। 

তিনির পৃথিবী থেকে চলে যাওয়াতে বড্ডবড় ক্ষতি হয়েছে এদের। শুধু তাই নয় সমাজে অনেক অসহায় মানুষ আশ্রয়স্থল ছিলো কুনু ভাই, গ্রাম থেকে আসা কিংবা দলের অনেক নেতাকর্মীরা হাসপাতাল কিংবা বিয়েসাধীতে অর্থনৈতিক সংকটে পড়লেই ছুঁটে আসতেন তার কাছে। এতসব আবদার নিয়ে আসার পর কখনও ফিরিয়ে দিতে দেখিনি, এমন দেখেছি বেশ কয়েকটি পরিবার গোপনে চালাতেন অর্থনৈতিক সহযোগীতা দিয়ে। 

এখন আসি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে-তিনি দীর্ঘ দিন পল্লীবন্ধু হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের পার্টি জাতীয় পার্টি করতেন, তিনি ছিলেন এক নিবেদিত প্রাণ সিলেট জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সিলেটের প্রতিটি উপজেলায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠিত করে রাখতেন। তাকের নিয়ে কোন নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল না। অনেক সময় দেখেছি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে কথা ধরনের বাধাপত্তি আসতো নিজের মধ্যে তিনি কিন্তু এসব দলীয় কোন্দল মনে না করে মিমাংসা করে নিয়েছেন সহজে এসব গুনে গুণান্বিত ছিলেন সব সময়। 

আজ কুনু ভাইকে নিয়ে লিখতে গিয়ে সব চেয়ে বেশি মনে পড়ে আমার বাসায় আসার কথাটি। মৃত্যুর প্রায় ৫ মাস পূর্বে তিনি তখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, হঠাৎ এক দিন আমাকে বলেন তর সাথে আমার দীর্ঘ দিনের সম্পক আমি তোর বাসায় দাওয়াত খেতে চাই আমি এতো খুসি হলাম। দিন তারিখ ঠিক করে নিলাম তারিখ ২৩ জানুয়ারী ২০২২ইং। বাসায় আসার পর এতো আনন্দ গল্প আড্ডায় মতে উঠে ছিলেন অনুষ্ঠানে তিনির সাথে জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি হুমাযুন ভাই, তাদের সাথে এসে যোগ দিলেন দাওয়াতি মেহমান সিলেট টিটিসির কম্পিউটার ট্রেডের প্রধান ফারুক স্যার, জব প্লেসমেন্ট অফিসার নীলা মেডাম সহ কয়েক জন কমকর্তা। আমিও খাবারে অনেক আইটেম ঠিক করে নিলাম, সাথে রাখ সিলেটির প্রিয় খাবার বিরন চালের ভাত ও গুরুর দুধ, নারিকেলের মিঠা, তিনি অন্যান্য সব খাবারের  চেয়ে এ খবারটি খেলেন আর বললেন অনেক দিন পর বাব দাদার পুরতান ঐতিহ্যের খাবার খেলাম সাথে আমার স্ত্রীকে এতো মজা করে রান্নার জন্য ধণ্যবাদ জানান। খাওয়া দাওয়া শেষে আমার সিটিং রুমে বসে বললেন এবার লন্ডনে গেলে বেশি দিন থাকবো না খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবো। 

আমি সিলেট- ৬ আসন (গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার) থেকে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হতে হলে দলকে সাজাতে হবে। এর কয়েক মাস পর লন্ডনে ডাক্তার দেখানো ও স্বপরিবারের সাথে সাক্ষাৎত করতে যান যাওয়ার আগে আমার সাথে সর্বশেষ দেখা একদিন বাসায় তারপর আর দেখা হয়নি তখন আমাকে প্রায়ই ফোন করতে সিলেট চৌহাট্টায় তিনির বাসায় দেখা করার জন্য কিন্তু আমি ব্যস্ততার কারণে দেখা করতে পারিনি তিনি এর মধ্যে লন্ডন চলে গেলেন, হঠাৎ একদিন রাতে আমাকে ফোন দেন লন্ডন থেকে কেমন আছি খোজ খবর নেন, দেশে আসার কথা জানান- কিন্তু এটাই ছিলো আমার সাথে শেষ কথা, কিন্তু ২০ অক্টোবর ২০২২ ইং (শনিবার) লন্ডনের সময় ১২ টায় হার্ট ব্লক অপারেশনে আমাদের প্রিয়জনের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তিনির মৃত্যুতে বড় শুন্যতা অনুভব করছি, বার-বার মনে পড়ে থাকে আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেদাউস দান করেন আমিন। 

লেখক: সম্পাদক সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট।

 

পাঠকের মন্তব্য