কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি সিলেট মহিলা টিটিসির কবির 

কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি

কেয়ারটেকার থেকে কোটিপতি

কোন রূপকথার গল্প নয়। মাত্র অল্প দিনেই সামান্য একজন কেয়ারটেকার থেকে কি ভাবে  কোটিপতি হওয়া যায় ? তবে কি-কি আলা দিনের চেরাগ পেয়েছেন তিনি ? চেরাগে ঘষা দিলেই দৈত্য এসে বলে “জি-হুকুম মালিক” আর টাকা দিয়ে যায়? এমনি একজন দাম্ভিক কোটিপতির সন্ধান পাওয়া গেছে সিলেট মহিলা টিটিসির কেয়ারটেকারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে নেওয়া কবির হোসেন। 

সিলেটে মহিলা টিটিসিতে তিনি যোগদান করেছেন ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারীতে। কবির হোসেনের মূল দায়িত্ব ছিলো ইলেক্ট্রনিক্সের ওয়ার্কশপ এটেনডেন্ট। উক্ত প্রতিষ্ঠানে কেয়ারটেকারের পদ শন্যূ থাকায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয় কেয়ারটেকারের। ভারপ্রাপ্ত কেয়ারটেকারের এ দায়িত্ব পাওয়ার পর জানা যায়, পেয়ে গেছেন আলা দিনের চেরাগ। অল্প দিনে হয়ে গেছে কোটিপতি। সিলেট মহিলা টিটিসিতে টানা ১৫ বছর ধরে করছেন ক্ষমতা ধাপটে চাকুরি। কবির হোসেনের চলা ফেরায় মনে হয় তিনি সিলেট মহিলা টিটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ভূমিকা পালন করছেন। সর্ব সময় চলাফেরা করছেন অফিসের দামি দামি গাড়ি ও অধ্যক্ষের ব্যবহারের গাড়িটি। 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই সাধারন শিক্ষার্থী, বিদেশগ্রামী মহিলা ও অভিভাবকদের। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিদেশগামী মহিলাদের সাথে দুব্যবহার, অতিরিক্ত ক্ষমতার ধাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সিলেটবাসী। কবির হোসেনের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছেন বিশেষ করে বেশগামী মহিলা ও সিলেটের ট্রাভেলস এজেন্সির মালিকরা। শত অভিযোগ থাকার সত্বে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট মৌখিক ভাবে নালিশি দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না আইনি প্রদক্ষেপ। অভিযোগে সূত্রে জানা যায় কবির হোসেন সিলেটে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এজেন্টের মাধ্যমে মহিলাদের বিদেশ পাঠানো নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।  নিজে এখন বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে মহিলাদের বিদেশে গমন করাচ্ছেন। 

প্রতিনিয়ত হাতের মোটে ব্যাগে ১৫/২০ পাসপোর্ট নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় মহিলাদের ট্রেনিংয়ের কথা বলে সিলেট নগরীর নামি দামি রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলে নারী সপ্লাই দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোপুর্বে কবির হোসেন আলোচনায় আসেন সিলেটের একটি আবাসিক হোটেলে কুমিল্লার জনৈক এক সুন্দরী যুবতী মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত থাকাকে নিয়ে। পরে ওই মেয়ে কে দিয়ে কয়েক লাখ টাকা উপর্জনের পর তাকে পাটিয়ে দেওয়া হয় আরব আমিরতে। এভাবে সিলেট মহিলা টিটিসিতে বিদেশগামি মহিলাদের ভর্তি দেখিয়ে গরীব অসহায় মহিলাদের বিভিন্ন ভাবে বাণিজ্য করাচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

এ সব কুকর্মের সহযোগীতা করছেন বিদেশগামী মহিলাদের ভর্তি দায়িত্বে থাকা বিষয় ভত্তিক শিক্ষিকা ফাতেফা বেগম। কবির হোসেন স্বপদে ১৫ বছর ধরে কর্মরত থাকায় স্থানীয়-প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছাত্র-ছায়ায় থেকে ব্যাপক ভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। টিটিসিতে ভর্তি বানিজ্য ও  আবাসিক ও রিসোর্টে নারী সাপ্লাই দিয়ে লাখ লাখ টাকা  হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ উঠেছে, নারায়গঞ্জে করেছেন তিনি কোটি টাকার একটি ফ্লাট বাড়ি।

   


পাঠকের মন্তব্য