দাওয়াত দিয়ে সাংবাদিক পেটালো বিএনপির নেতাকর্মীরা !

উত্তর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল

উত্তর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এতে বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইমরুল আহসান জনিসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সবাইকে শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের দালালরা অনুষ্ঠানে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করেছে। সরকারের দালালরা গণমাধ্যমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে, বিশৃঙ্খলা করছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সাংবাদিকরা বলছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় কয়েকজন ক্যামেরাপার্সন আহত হয়েছেন। দুটি টেলিভিশনের ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইফতার আয়োজকদের একজন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর সমাধান করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সংগ্রাম করছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। এমন একটি সরকার আমাদের উপর চেপে বসেছে। যে সরকার মানুষের মর্যাদা দিতে জানে না, মানুষের জীবনের মূল্য দিতে জানে না। তারা যেকোনো উপায়ে হোক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চায়। তাদের অত্যাচার থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে নওগাঁয় একজন অসহায় নিরপরাধ নারীকে জীবন দিতে হলো। এর দায় কে নেবে ? এর সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, এই সরকার আরও তিনজন শ্রদ্ধেয় সম্পাদককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। তারা হলেন সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও যায় যায় দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান। আজকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা কোনোটাই নেই দেশে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ১০ দফা দিয়েছি। সেখানে বলেছি, এ সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তাদের পরিচালনা জনগণের ভোটে জনগণের সরকার গঠিত হবে। নির্বাচনে যদি বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়, তাহলে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। সেই সরকার রাষ্ট্রের কাঠামো মেরামত করা হবে। কারণ বর্তমান সরকার সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিতি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান।

   


পাঠকের মন্তব্য