সুন্দরগঞ্জে ভোটে পরাজিত প্রার্থীর সিল মারা ব্যালট উদ্ধার

সুন্দরগঞ্জে ভোটে পরাজিত প্রার্থীর সিল মারা ব্যালট উদ্ধার

সুন্দরগঞ্জে ভোটে পরাজিত প্রার্থীর সিল মারা ব্যালট উদ্ধার

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভোট কেন্দ্র থেকে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর প্রতীকে সীলমারা একশ' ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার দুপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম আজমিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

সরেজমিনে জানা যায়, শনিবার উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ক্ষুদিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের মেঝেতে পুরোনো কার্পেট পরিবর্তন করে নতুন কার্পেট বিছাতে যান বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরি ওসমান গণি। সেই কার্পেট পরিবর্তনের সময় উত্তরের টেবিলের পুরোনো কার্পেটের নিচে মেঝে থেকে তালা প্রতীকে সীলমারা একশ' ব্যালট পেপার দেখতে পান। বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সরকারকে জানালে ওই শিক্ষক পুলিশকে তা অবহিত করেন।  পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যালট পেপার উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। 

জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ওয়ার্ড থেকে তালা প্রতীক নিয়ে মেম্বার পদে নির্বাচন করেছিলেন ছাইদুর রহমান নামের এক প্রার্থী। যিনি পেয়েছিলেন ৫৫৫ ভোট এবং ৫৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান মেম্বার জাহেদুল ইসলাম। 

বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরি ওসমান গণি জানান, শনিবার অফিসের পুরোনো কার্পেট পরিবর্তনের সময় কার্পেটের নিচ থেকে ব্যালট পেপার পাই। বিষয়টি তখনই স্যারকে জানালে তিনি পুলিশকে জানান। 

পরাজিত প্রার্থী ছাইদুর রহমান বলছেন,' আমার প্রতীক ছিল তালা। আর তালা প্রতীকে সীলমারা ব্যালট পেপার বের হলো একশ। আমি ভোট পেয়েছি ৫৫৫ টি আর বর্তমান মেম্বার জাহেদুল পেয়েছে ৫৮৬টি। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ঠকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।'

বর্তমান মেম্বার জাহেদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, 'দেড় বছর পর ব্যালট পেপার উদ্ধার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।' শান্তিরাম ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটানিং কর্মকর্তা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলছেন, 'বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচন অফিস সিদ্ধান্ত নিবে। সেখানে কিছু করণীয় থাকলে আমি সেটা করবো।'

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জানতে বার বার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে অন্য নাম্বার থেকে তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষণে রয়েছেন বলে এসএমএস করেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা উদ্ধারকৃত ব্যালট পেপার নির্বাচন অফিসে জমা দিয়েছি। তদন্ত চলছে।

   


পাঠকের মন্তব্য