সোনারগাঁয়ে লোকজ ও কারুশিল্প মেলায় উপচে পড়া ভীর 

লোকজ ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন মেলা শুরু

লোকজ ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন মেলা শুরু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লোকজ ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন মেলা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই উপচে পড়া ভীর লক্ষ্য করা গেছে। সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মাসব্যাপী বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন মেলা। 

মাসব্যাপী লোকজ ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ছুটির দিনে সরেজমিনে দেখা যায় সারামেলায় দর্শনাথীদের ভীড় বিভিন্ন স্টল ঘুরে মনের মতো করে কেনাকাটা করছেন লোকজ ওকারুশিল্প মেলার আগত দর্শকরা। এবং সংস্কৃতি মনা দর্শকরা বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হইয়া লোক ও কারুশিল্প মেলায় আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন।

আবহমান গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছরই মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব আয়োজন করে থাকে। মেলায় বিদেশি অতিথিদের আগমন ঘটে মেলা চত্বরে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। সোনারগাঁয়ের মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন মেলায় লক্ষ করা যায় ছুটির দিনে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভীড় চোখে পড়ার মতো। মেলার বিভিন্ন স্টলে বাহারি সাজে সজ্জিত,টেপা পুতুল তৈরির কারুশিল্পী জানান,দর্শনার্থী বেশি হওয়ায় তুলনামূলকভাবে বিক্রিও বেড়েছে।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক একেএম আজাদ সরকার জানান,হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন।উল্লেখ্য,গত ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ লোকজ উৎসব শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত উৎসব প্রাঙ্গণ খোলা থাকবে।

উৎসবে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা তবে বিকাল ৫টার পর উৎসবে ফ্রি প্রবেশ করা যায়। এবার মেলায় সাধারণ স্টল ও কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনীর ৩২টি স্টলসহ সর্বমোট পালের সংখ্যা ১০০টি। এতে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রথিতযশা ৬৪ জন কারুশিল্পী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।এ বছর মৌলভীবাজার ও ঝালকাঠীর শীতল পাটি,মাগুরার শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মাটির পুতুল,রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁ,টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশ বেতের কারুশিল্প,ঐতিহ্যবাহী জামদানি,নকশিকাঁথা,নকশি হাতপাখা,কাঠের চিত্রিত হাতি-ঘোড়া-পুতুল,বন্দরের রিকশা পেইন্টিং,কুমিল্লার,তামা-কাঁসা-পিতলের কারুশিল্প,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারুশিল্প,কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল,বগুড়ার লোকজ খেলনা ও কুমিল্লার লোকজ বাদ্যযন্ত্রের শিল্পীসহ মোট ১৭ জেলার কারুশিল্পীরা মেলায় অংশ নেবেন। প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে কারুশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে।

মাসব্যাপী লোকজ উৎসব ২০২৪ এর প্রতিদিনের সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানমালায় লোকজ মঞ্চে পালাক্রমে বাউলগান,পালাগান,ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালী গান, জারি-সারিগান,হাসন রাজার গান,শাহ আব্দুল করিমের গান,লালন সঙ্গীত,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ খেলা,লাঠিখেলা,ঘুড়ি ওড়ানো,চর্যাগান, লোকগল্প বলা ইত্যাদি অনুষ্ঠান পরিবেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

   


পাঠকের মন্তব্য