পাইকগাছার এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থলুপাটের অভিযোগ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ

পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অর্থলুপাটের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ হয়েছে। সরকারি রাস্তার ইট তুলে বিক্রয় ও বিভিন্ন বরাদ্দের কাজে ব্যবহার করে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

প্রাপ্ত অভিযোগে জানাযায়, বিগত ২০২৩ সালে লতা ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান অনৈতিক কাজের জন্য  সাময়িক বরখাস্ত থাকেন। ওই সময় লতার ৫নং ওয়ার্ড সদস্য পুলকেশ রায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি কাটামারি বাজার থেকে উত্তর দিকের ১কি.মি. ইটের সলিং এর রাস্তার প্রায় ৮০ হাজার ইট তুলে ফেলেন। যার বাজার মূল্য ৮ লক্ষাধিক টাকা। ওই ইটের মধ্যে কিছু ইট নিয়ে তিনি উত্তর কাটামারি মন্দির সংস্কারের জন্য সেখানে মজুদ রাখেন। 

অপরদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পাকা স্টেজ তৈরির জন্য ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। যার মধ্যে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ১ লাখ টাকা প্রদান করেন। আর বাকি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যয় করার কথা থাকে। কিন্তু পুলকেশ রায় রাস্তা থেকে খুলে নেওয়া ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করে স্টেজের কাজে লাগান। তাছাড়া তিনি বাহিরবুনিয়া মসজিদ সংলগ্ন ব্রীজের বিপরীতে অবস্থিত কাটামারি রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে রাস্তা থেকে খুলে নেয়া ওই ইট রাস্তার কাজে লাগান। কাটামারি অমল কৃষ্ণ ঢালীর বাড়ীর সামনের কালভার্ট নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে সেখানে ও রাস্তা থেকে খুলে নেয়া ঐ ইট ব্যবহার করেন পুলকেশ রায়। এছাড়াও কাটামারি বাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন রাস্তার সংস্কারের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে সেখানে ও ওই ইট ব্যবহার করা হয়। আর পুলকেশ রায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালে তার কাজগুলো সরেজমিন তদন্ত হলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে বলে জোর দাবি তোলেন স্থানীয় এলাকাবাসীর। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য পুলকেশ রায়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কিছু ইট মন্দির ও ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন স্টেজ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আর বাকি ইট রাস্তার পাশে রাখা আছে। আমি কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। সর্বোপরি এ ঘটনার তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য  ২৮ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

   


পাঠকের মন্তব্য