বেসিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ফর ক্লাস্টার গ্রুপ মেম্বাসের উদ্বোধন 

প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল

প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল

❝সাসটেইনেবল কোস্টাল এ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট❞ এর আওতায় ৩ দিন ব্যাপী❝ বেসিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ফর ক্লাস্টার গ্রুপ মেম্বারস❞-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ৩দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের ১ম কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল।

সভাপতিত্ব করেন, প্রশিক্ষক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। এসময়ে উপজেলার লতা ইউনিয়নের আসাননগর ২৫ জন চিংড়ি ক্লাস্টার চাষী প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেন। এঅঞ্চলে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে  চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ব্যাপক ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে হলে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। বিগত এক দশক ধরে কাঁচামাল সংকটে খুলনা অঞ্চলে ৭৪ টির মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকীগুলোর মধ্যে ১৫-২০টি ভালোভাবে চলছে। বিগত ২০১০-১১ অর্থ বছরে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল ৫৪ হাজার ৮ শ ৯১ মে.টন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩শ ৩৬ মে.টন। 

এই সংকটময় অবস্থা কাটিয়ে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার অন্যতম ক্লাস্টার পদ্ধতি। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই প্রযুক্তির চাষাবাদে হেক্টর প্রতি গড়ে ১ হাজার কেজি থেকে ১২ শত কেজি উৎপাদন সম্ভব হবে। এটি টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব। সনাতন পদ্ধতির চেয়ে অনেক উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। 

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন, স্থায়ীত্বশীল চাষ ব্যবস্থাপনার প্রচলন, বাজারজাতকরণ সহ চিংড়ি রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত চিংড়ি সরবরাহ, ব্রান্ডিং সৃষ্টি, ই- ট্রেসিবিলিটি, সার্টিফিকেশন ইত্যাদি বাস্তবায়নে ক্লাস্টার ফার্মিং একান্ত প্রয়োজন। এলক্ষ্যে ❝সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট❞-এর আওতায় ৩ শতটি ক্লাস্টার গঠন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ফলাফল দেখে অন্য চাষিরাও উৎসাহিত হবে। এটি চিংড়ি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে। পাইকগাছায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে  সরকারি অনুদানে ৪টা ক্লাস্টার বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

প্রশিক্ষক ছিলেন, সাসটেইনেবল কোস্টাল এ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প উপ-প্রকল্প পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রী, বটিয়াঘাটা সিনি. উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন, সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া প্রকল্পের মেরিন ফিশারিজ অফিসার মো. কাওছার হোসেন আকন।

   


পাঠকের মন্তব্য