চালু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক চালু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক চালু

বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক চালু করেছে, একটি উদ্যোগ যার লক্ষ্য বিশ্ব শান্তি, মানবাধিকার এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর লক্ষ্যে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা সোমবার, ২০ মে, ২০২৪ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক নীতি-২০২৪-এর খসড়া অনুমোদন করেছে।

উল্লিখিত ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি দুই বছর অন্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক প্রদান করা হবে। পুরস্কারের মূল বিবরণ অন্তর্ভুক্ত:
 
ফ্রিকোয়েন্সি: প্রতি দুই বছর পর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে পুরস্কারটি ঘোষণা করা হবে। প্রথম পুরস্কার অনুষ্ঠান ২৩ মে, ২০২৫ এ অনুষ্ঠিত হবে।
যোগ্যতা: বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের নাগরিকরা পদকের জন্য যোগ্য। মনোনীত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া: নোবেল বিজয়ী এবং বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাসের প্রধানরা তাদের নিজ নিজ দেশের মনোনীতদের প্রস্তাব করতে পারেন।
পুরষ্কার রচনা: ১৮-ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ৫০-গ্রাম স্বর্ণপদক এবং ১০০,০০০ মার্কিন ডলারের সমতুল্য আর্থিক পুরস্কার রয়েছে। 
জুরি এবং প্রশাসন: পুরস্কার প্রাপকদের নির্বাচন করার জন্য একটি নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুরস্কার সংক্রান্ত সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য দায়ী থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদকের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল বৈশ্বিক শান্তি, মানবাধিকার সমর্থন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রচেষ্টাকে সম্মান করা এবং উত্সাহিত করা। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন পদকের তাৎপর্য ও পদ্ধতিগত দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি পুরস্কারের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকৃতির উপর জোর দেন, যা বিশ্বজুড়ে মনোনীতদের স্বাগত জানায়, এইভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সংহতির প্রতি বাংলাদেশের উত্সর্গকে শক্তিশালী করে।

পদক অনুমোদনের পাশাপাশি মন্ত্রিসভা মনোনয়ন, বাছাই এবং পুরস্কার প্রদান প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি ব্যাপক নীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নীতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক প্রশাসনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক প্রবর্তন বৈশ্বিক শান্তি ও মানবাধিকার প্রচেষ্টায় অবদান রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। এই ক্ষেত্রগুলিতে অনুকরণীয় অবদানের স্বীকৃতি এবং পুরস্কৃত করার মাধ্যমে, বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের দিকে আরও প্রচেষ্টাকে অনুপ্রাণিত করা।

   


পাঠকের মন্তব্য