ধরাছোঁয়ার বাইরে কক্সবাজারের মানবপাচারকারী মাসুদ 

অপরাধীদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট

অপরাধীদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে হোটেল মোটেল জোনে ইয়াবা ব্যবসা,পতিতা সরবরাহ সহ ছিনতাইকারীদের নেতৃত্ব দেন আনোয়ার মিয়া প্রকাশ মাসুদ দালাল।হোটেল জোনে তার নেতৃত্বে রয়েছে অপরাধীদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট। দালাল মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড।  

জানা যায়,দালাল মাসুদ এর স্হায়ী বাড়ি মহেশখালী হলেও সে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করে আসছে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াবাসা নিয়ে।কৌশলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নারী এনে ভাড়া বাসায় রেখে টাকার বিনিময়ে হোটেলে খদ্দের কাছে বিক্রি করে।রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নারী সরবারাহের পাশাপাশি কৌশলে ইয়াবাও নিয়ে আসে। এমনকি বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের আর্থিক দুর্ভোলতার সুযোগ নিয়ে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে মেয়েদেরকে এনে তাদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে এই মাসুদ দালাল।

আরও জানা যায়,হোটেল মোটেলে পতিতা সরবরাহ কাজে দালাল মাসুদ এর সহযোগী হিসেবে কাজ করে তার শালা ওসমান গনি হৃদয়। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য্যের ছোঁয়া নিতে আসা পর্যটকদের চাহিদা মতো নারী সরবরাহের পাশাপাশি চাহিদা মতো ইয়াবাও পৌঁছে দেয় মাসুদ দালাল।কক্সবাজার শহরে মাসুদ দালালের একটি বিশাল ইয়াবা ও নারী পাচারের  সিন্ডিকেট রয়েছে।বর্তমানে দালাল মাসুদ হয়ে উঠে কক্সবাজার শহরের পতিতা ও ইয়াবা ব্যবসার শীর্ষ ডন।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, দালাল মাসুদ নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা এলাকার মুন্নী নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলীর শাহেদ নামক এক ব্যক্তির ভাড়াবাসায় থাকে।এই বাসায় তার বউ সহ আরও ৫/৬ জন রোহিঙ্গা নারী রেখে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে দালাল মাসুদ তার বউ রেখে পাশের রুমে থাকা রোহিঙ্গা নারীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপের সময় বউ দেখে ফেলায় দুজনের মাঝে তুমুল ঝগড়া হয়।এসব সয়তে না পেরে তার বউ বাপের বাড়িতে চলে।

দালাল মাসুদ এর কথিত স্ত্রী মুন্নী বলেন,মাসুদ একজন সিএনজি চালক ছিল।তার সাথে আমার মোবাইলে সম্পর্ক হয়।পরে আমরা দুজন বিয়ে করি।বিয়ের কিছুদিন পর তার আসল রূপ ধরা পড়ে।সে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নারী এনে হোটেল বিক্রি করে দেয়। এমন অবৈধ কার্যকলাপ দেখে আমি প্রতিবাদ করলে সে বলে পারলে তুকেও বিক্রি করে দেব বলে হুমকি দেয়। ঠিকই কিছুদিন না যেতে সে আমাকে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন হোটেলে খদ্দের কাছে বিক্রি করে দেয়।আমি যেতে না চাইলে সে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে।তার নির্যাতন থেকে বাঁচতে মুখ বুঝে সবকিছু সহ্য করে আসছি।
 
তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।এই মাদক ও পতিতা বব্যবসায়ী মাসুদ ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের  দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে যুবসমাজ সহ এলাকার আইন শৃংখলার অবনতি হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। 

এবিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো:রকিবুজ্জামান বলেন,আমি অবগত ছিলাম না,এখন জেনেছি। খোঁজখবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

   


পাঠকের মন্তব্য