দুর্নীতি-মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি

দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন 

দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন 

বাংলাদেশ তার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে মাদক, সন্ত্রাসবাদ এবং দুর্নীতি দূর করার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অর্জন করা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে শুধু উন্নত করবে না বরং এর দেশপ্রেমিক নাগরিকদের স্বপ্ন এবং এর সরকারের দূরদর্শী আকাঙ্খাও পূরণ করবে। দেশের সাফল্যের চিত্তাকর্ষক তালিকা এবং আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এর স্থিতিস্থাপক মনোভাব দেখায় যে এই লক্ষ্যগুলি, উচ্চাভিলাষী হলেও, নাগালের মধ্যে রয়েছে।

হেনরি কিসিঞ্জারের 'তলাবিহীন ঝুড়ি' তকমা পাওয়া থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার যাত্রা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রমাণ। গত কয়েক দশকে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সাক্ষী হয়েছে। রেমিটেন্স বেড়েছে, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতি প্রশংসনীয়। সামাজিক উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং দেশটি বিশ্বব্যাপী সুখ এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের সূচকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল অবস্থান নিয়ে গর্বিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং খেলাধুলার পরিবর্তন স্থিতিস্থাপকতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি বিস্তৃত বর্ণনাকে আন্ডারস্কোর করে।

সরকারের 'ভিশন-২০২১' এবং 'ভিশন-২০৪১' কর্মসূচির লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় রূপান্তর করা। এই উদ্যোগগুলি ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ হয়েছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবুও, এই অর্জন সত্ত্বেও, দুর্নীতি এবং মাদক ব্যাপক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের কুখ্যাতি তার রেকর্ডে একটি উল্লেখযোগ্য দাগ। যদিও এই কলঙ্ক দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবুও দুর্নীতি এখনও সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জাতির পূর্ণ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি আশার আলো। তার সোচ্চার অবস্থান এবং চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান এই সমস্যাগুলিকে মূলোৎপাটন করার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে। দলীয় জোট অন্যায়কারীদের রক্ষা করবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা একটি সাহসী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সততা এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। যাইহোক, চ্যালেঞ্জটি এই গতিকে টিকিয়ে রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই যে নিরলস এবং ব্যাপক তা নিশ্চিত করা।

দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি যারা অবৈধ উপায়ে সম্পদ সংগ্রহ করেছে তা সিস্টেমিক দুর্বলতা সম্পর্কে সমালোচনামূলক প্রশ্ন উত্থাপন করে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একটি স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা করা দুর্নীতি এবং অপরাধের একটি পরিষ্কার চিত্র প্রদান করতে পারে, দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ সক্ষম করতে পারে। সনাক্তকৃত অপরাধের জন্য অবিলম্বে এবং কঠোর শাস্তি একটি প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করবে এবং আইনের শাসনকে সমুন্নত করবে।

মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের দৃঢ় অবস্থান এবং বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল অপরাধীকে ধরা ইতিবাচক পদক্ষেপ। যাইহোক, স্থায়ী সাফল্যের জন্য ক্রমাগত সতর্কতা এবং ব্যাপক কৌশল প্রয়োজন যা এই সমস্যাগুলির মূল কারণগুলিকে মোকাবেলা করে।

ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করতে পারে, এবং কর্তৃত্বের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক থাকতে হবে। ক্ষমতা লাভের পর নেতাদের সততা বজায় রাখা বিরল, এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা নেতাদের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে অধিষ্ঠিত করা অপরিহার্য করে তোলে। বাংলাদেশের জনগণ এমন নেতাদের প্রাপ্য যারা সৎ, আদর্শিকভাবে দৃঢ় এবং দেশপ্রেমিক, সর্বোপরি জাতির কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিশেষে বলা যায়, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির শৃঙ্খলমুক্ত বাংলাদেশ একটি মর্যাদাপূর্ণ ও গর্বিত দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভবিষ্যতের পথটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ, কিন্তু দৃঢ় নেতৃত্ব, সজাগ শাসন এবং জনগণের অটল চেতনার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। এখন পর্যন্ত দেশের অগ্রগতি হল একটি ভিত্তি যার উপর ভিত্তি করে একটি উজ্জ্বল, আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলা যায়। এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা যার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং গঠনমূলক চিন্তার প্রয়োজন। একটি উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন শুধু একটি আশা নয়, এটি একটি অর্জনযোগ্য বাস্তবতা।

   


পাঠকের মন্তব্য