এসেছিলেন বর যাত্রী হয়ে;ফিরলেন লাশের মিছিল নিয়ে

ব্রীজ ভেঙে বরযাত্রীসহ মাইক্রোবাস খালে

ব্রীজ ভেঙে বরযাত্রীসহ মাইক্রোবাস খালে

এসেছিলেন তারা বরয়াত্রী হয়ে কিন্তু বিদায় নিলেন লাশ হয়ে ! একই সাথে বরযাত্রী হয়ে আসা ১০ জন মানুষের মৃত্যু সত্যিই হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে গোটা দেশবাসীর। বরগুনার আমতলী উপজেলার একটি ব্রীজ ভেঙে বরযাত্রীসহ মাইক্রোবাস খালে পড়ে যায়।  এতেই পানিতে ডুবে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ১০ বর যাত্রীর। এ ঘটনায় প্রায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ডুবুরি ও স্থানীয় মানুষ কাজ করছেন। 

শনিবার (২২ জুন,২০২৪) দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়া ইউনিয়নের ব্রীজ, হলদিয়া হাট এলাকায় এমন নির্ম্ম দূর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম  নিশ্চিত করেছেন। 

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ১৭ জন যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি শনিবার দুপুরে মেয়ের বাড়িতে আসার পরে যাওয়ার পথে এমন দূর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহতরা সবাই নারী এবং শিশু। বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির এমন ঘটনায় বর্তমানে ওই এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের ১০ জনের মধ্যে ৭ জন শিবচর মাদরীপুরের বাসিন্দা এবং ২ জন স্থানীয় গুরুদল গ্রামের। আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রামের মনির হাওলাদারের মেয়ে হুমায়রা বেগমের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল গত শুক্রবার। ওই অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে শনিবার দুপুর দেড় টার সময় তারা মাইক্রো যোগে আমতলী আসছিল। পথিমধ্যে মাইক্রো বাসটি হলদিয়া বাজার সংলগ্ন লোহার সেতু পার হওয়ার সময় মাঝ বরাবর ভেঙে কচুরিপানায় ভরা খালে তলিয়ে যায়। মাইক্রোবাস পড়ে যাওয়ার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। মুষলধারে বৃষ্টি এবং খালে নেমে উদ্ধারের কোনো সুযোগ না থাকায় উদ্ধার কাজে বিলম্ব ঘটায় অনেকেই তখন পানিতেই প্রাণ হারান। মাক্রো বাসটি পানির উপরে তোলার পর একের পর এক বেড়িয়ে আসে নারী-শিশুসহ ৯টি লাশ। ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৩ জন।

উদ্ধার হওয়া লাশ হলো শিবচর মাদরীপুরের মুনী বেগম (৪০), তার ছোট মেয়ে তাহিয়া (৭), বড় মেয়ে তাসফিয়া (১১), একই এলাকার ফরিদা বেগম (৫৫), রাইতি (৩০), ফাতেমা আক্তার (৪০), রুবী বেগম (৪০), হলদিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে হৃদি (৫), তার মা জাকিয়া বেগম (৩০)। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪ জন হলেন মাহবুব খান, সোহেল খান, সুমা আক্তার ও দীশা আক্তার তারা সবাই শরিয়তপুরের বাসিন্দা।

জীবিত উদ্ধার হওয়া মাহবুব খান বলেন, মাইক্রোবাসটি লোহার সেতুর মাঝ বরাবর আসার পর আকস্মিক ধসে কচুরিপনায় ভর্তি খালে ডুবে যায়। এরপর আর কিছুই বলতে পারি না। হুশ ফিরে দেখি হাসপাতালে। আল্লায় মোগো বাঁচাইলেও সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা কাজ করছেন। 

   


পাঠকের মন্তব্য