বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইতালি 

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইতালি 

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইতালি 

ইতালি বাংলাদেশের কাছে যুদ্ধবিমান, স্যাটেলাইট, টহল জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব লেনদেনের সুবিধার্থে ইতালি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহী। সোমবার ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনায় এই প্রস্তাবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত মাসে, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেন, যেখানে তিনি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নে ইতালির আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। ইতালিও বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয় রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মহাসচিব রিকার্ডো গুয়ারিগলিয়া।

সভার এজেন্ডায় বিস্তৃত বিষয় রয়েছে- 

  1. রাজনৈতিক সহযোগিতা
  2. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
  3. প্রতিরক্ষা
  4. অভিবাসন
  5. স্যাটেলাইট প্রযুক্তি
  6. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
  7. সাইবার নিরাপত্তা
  8. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

ইতালি বেশ কয়েক বছর আগে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তাব করে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। ইউরোপীয় দেশটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী উভয়ের কাছে সরঞ্জাম বিক্রির লক্ষ্য রাখে। এর মধ্যে রয়েছে থ্যালেস অ্যালেনিয়া এবং লিওনার্দোর মতো কোম্পানির অফার, যারা স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর প্রদানে আগ্রহী। ইতালীয় জাহাজ নির্মাতারাও উপকূলীয় টহল জাহাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিক্রির প্রস্তাব করেছে।

ইতালির উৎসাহ সত্ত্বেও বাংলাদেশে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং রিজার্ভ সংকটের অর্থ এই বৈঠকে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা প্রকল্প চূড়ান্ত করা হবে না। মুলতুবি প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে প্রতিরক্ষা এমওইউটিও এই সময়ে স্বাক্ষর করা হবে না।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা আইটেম। দুই দেশের মধ্যে নিরাপদ অভিবাসনের সুবিধার্থে ইতালি ফেব্রুয়ারিতে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক প্রস্তাব করেছে, যা বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সংকট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতালীয় প্রতিনিধিদলের একটি অংশ সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আলোচনার পর কক্সবাজার সফরের পরিকল্পনা করেছে।

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে আসন্ন পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। যদিও আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করতে পারে, আলোচনাগুলি অভিবাসন, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত পরিধির ওপর জোর দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের মতো চাপের আঞ্চলিক বিষয়গুলোও আলোচনা হবে।

   


পাঠকের মন্তব্য