জামালপুরে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ

পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুরের যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ।  

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। বন্যার কারণে অন্তত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে, বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। 

এদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ি সড়কের একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ও কাঠারবিল এলাকায় দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের ৩০ মিটার অংশ বন্যার পানিতে ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার সাথে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দুটির সংস্কার কাজ না করায় দেওয়ানগঞ্জের সাথে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারি উপজেলা এবং গাইবান্ধার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে, এতে ভোগন্তিতে পড়েছে প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মানুষ।  

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বাড়িঘরে পানি উঠে পড়ায় কয়েকশ পরিবার গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ৩শ মেট্টিক টন চাল ও ৩ হাজার ৪শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, ১১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, বন্যা মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তারেক মো: রওনাক আখতার জানান, বন্যার কারণে ইসলামপুর উপজেলার ১২টি এবং মেলান্দহ উপজেলার দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, বন্যার পানি বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ায় উপজেলার ১৩৫ টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

   


পাঠকের মন্তব্য