বেনজিরকাণ্ডে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যতো শঙ্কা 

বাংলাদেশে ভূমি দখল এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শোষণ

বাংলাদেশে ভূমি দখল এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শোষণ

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, বাংলাদেশে ভূমি দখল এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শোষণের বিষয়ে একটি উদ্বেগজনক বর্ণনা এসেছে। এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, যার কর্মকাণ্ড সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বৈষম্যের চলমান বিষয়গুলোকে ছাপিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বেনজির আহমেদের কথিত জমি দখল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর প্রভাব এবং মিডিয়া ও কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়ার পরিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বেনজির আহমেদ, একজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের মালিকানাধীন জমিগুলিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক জমি দখলের জন্য অভিযুক্ত। রিপোর্টগুলি ইঙ্গিত করে যে আহমেদ প্রশাসনের মধ্যে তার অবস্থান এবং সংযোগগুলিকে কাজে লাগিয়ে অন্যদের মধ্যে হিন্দু এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন।

অনুসন্ধানী ফলাফল

বেনজীর আহমেদের কর্মকাণ্ডের প্রথম ব্যাপক অনুসন্ধান বাংলা দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রকাশ করে। উপ-সম্পাদক হায়দার আলী গোপালগঞ্জের সাহাপুরের মতো এলাকায় জমি দখলের পরিমাণ প্রকাশ করে একটি গভীর তদন্ত করেছেন। হায়দার আলীর মতে, প্রশ্নবিদ্ধ জমিটি মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ছিল, যাদেরকে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিছু পুলিশ অফিসার আহমেদকে এই বেআইনি অধিগ্রহণে সহায়তা করার জন্য জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।

অন্যান্য মিডিয়া আউটলেট থেকে বিশদ 

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের পর প্রজন্মকণ্ঠ, প্রথম আলো এবং বাংলা ট্রিবিউনের মতো অন্যান্য গণমাধ্যমও বিষয়টির মাত্রা তুলে ধরতে শুরু করে। প্রথম আলো জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে প্রায় ৬০০ বিঘা জমি বেনজির আহমেদ ও তার পরিবার প্রায়ই ভয়ভীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্রয় করেছে। এদিকে, বাংলা ট্রিবিউন বান্দরবানের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে জমি দখলের কথা তুলে ধরেছে, যেখানে দরিদ্র পরিবারগুলিকে তাদের জমি ন্যূনতম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ স্বীকার করলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেনি। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের মতে, তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এসব কাজে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে দুদক এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেয়নি।

ভিকটিম সাক্ষ্য

মাদারীপুরের বড়খোলা গ্রামের সরস্বতী রায়ের মতো ভুক্তভোগীরা তাদের জমি জোরপূর্বক বিক্রির কারণে চরম মানসিক ও আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। রায় দাবি করেছেন যে ভয় তাকে স্থানান্তরিত করতে পরিচালিত করেছে এবং সে এখন তার জমি ফেরত চাইছে।

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রতিক্রিয়া গভীর উদ্বেগ এবং ক্ষোভের একটি। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, বেনজির আহমেদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা সংখ্যালঘুদের জমিতে পদ্ধতিগত দখলের সমালোচনা করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের কর্মগুলি প্রায়শই প্রচলিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা কাঠামোর দ্বারা সুরক্ষিত থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা পার্বত্য অঞ্চলে জমি দখলের বৃহত্তর ইস্যুটি তুলে ধরেন এবং আদিবাসীদের জমি রক্ষার জন্য বিদ্যমান চুক্তির বাস্তবায়নের অভাবের সমালোচনা করেন।

সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি জমি দখলের একটি গভীর উদ্বেগজনক প্রবণতা উন্মোচন করেছে যা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। এই সম্প্রদায়গুলিকে শোষণ করার জন্য ক্ষমতা এবং প্রভাবের ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যুকে আন্ডারস্কোর করে যা জরুরি মনোযোগ দাবি করে। দুদকের চলমান তদন্ত এবং এই অপব্যবহারের উপর আলোকপাত করার ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের জন্য ন্যায়বিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

   


পাঠকের মন্তব্য