সোনারগাঁয়ে রাস্তা নির্মানে নিন্মমানের সামগ্রী, পুরো রাস্তা জুড়ে ফাটল

রাস্তা নির্মানে নিন্মমানের সামগ্রী

রাস্তা নির্মানে নিন্মমানের সামগ্রী

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের দেড় কোটি টাকার রাস্তার কাজ শুরু হবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খন্ড খন্ড ফাটল দেখা দিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম জানান,  এটি স্বাভাবিক, শীগ্রই সমাধান হয়ে যাবে। 

এলাকাবাসীর দাবি, নিম্ন মানের সামগ্রী ও পাথর স্বল্পতার কারণে এ ফাটল দেখা গিয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে রাস্তার বেহাল দশা সৃষ্টি হতে পারে। ধসে পড়তে পারে খালে, এভাবে নিম্নসামগ্রী ব্যবহার করে আর কত আমাদের কে ঠকাবে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদাররা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ছোট সাদিপুর) সড়ক থেকে চৈতি কোম্পানি প্রায় ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে ঠিকাদার জাবেদের বিরুদ্ধে।

এলজিইডির ২০২৩-২০৪অর্থ বছরে প্রকল্পে ড্রেন,কালভার্ট ও কার্পেটিং কাজের অনুকুলে প্রায় দের কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুগদাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সাদীপুর এলাকার রাস্তার ১.৫কিলোমিটার নির্মান কাজের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

প্রকল্পের নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আরসিসি রাস্তা নির্মাণে স্বল্প সিমেন্ট ও পাথর মিশ্রিত করে নিম্নমানের ইট খোয়াসহ নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তায়। জানা যায় ফ্রেশ কোম্পানির রেডিমেড মিক্সার ব্যবহার করা হয় এই দেড় কিলো রাস্তা নির্মাণ কাজে। যার গুনগত মান খুবই নিম্ন মানের।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অনিয়মের অভিযোগের পর কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলেও এখনো অনিয়মের মাধ্যমে কাজ দিয়েই উক্ত কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার জাবেদ।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি সহকারি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে সরেজমিনে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেন। তিনি বলেন কোনভাবেই অনিয়মের সুযোগ নেই আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই তার বিল পরিশোধ করব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনারগাঁ উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার বছর বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

প্রকল্পগুলোতে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কিছু দিনের মধ্যেই রাস্তাটি ভেঙ্গে জলে যাচ্ছে সরকারি টাকা। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এসব সড়ক। ফলে সরকারি বরাদ্দের অবমুল্যায়নের ফলে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এলাকাবাসীদের।

এই বিষয়ে মোগড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, সাদিপুর গ্রামের সড়কের ১.৫কিলোমিটার কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে এলাকাবাসী কেউ আমাকে জানায়নি। যদি কোন অনিয়ম বা দুর্নীতির করে থাকে তা যথাযথভাবে পরিপূর্ণভাবে করতে হবে। কোনভাবেই আমার ইউনিয়নে রাস্তার কাজে অনিয়ম হতে দেব না।

তিনি আরো বলেন, মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে উল্লেখিত কাজের ঠিাকাদারকে টেন্ডারের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার কথা বলেছি।

সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশল এলজিইডি রেজাউল বলেন, উন্নয়ন কাজের চুক্তি মোতাবেক কাজ না হলে এবং কাজে অনিয়ম হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজ আল ফয়সাল বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না কেউ অবগত করেনি, তবে ইঞ্জিনিয়ারকে সরে জমিনে তদন্তের জন্যে বলা হয়েছে। অনিয়মের কোন সুযোগ নেই, প্রয়োজনে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

   


পাঠকের মন্তব্য