ট্রাম্প-কিমের বৈঠক

ভিয়েতনাম পৌঁছেছেন ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের উদ্দেশে ভিয়েতনাম পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে করে মঙ্গলবার রাতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে পৌঁছান বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ভিয়েতনামে উপস্থিত হয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়া থেকে চীন হয়ে কিমের সবুজ ও হলুদ রঙের ট্রেনটি মঙ্গলবার সকালে ভিয়েতনাম এসে পৌঁছে। সেখান থেকে ১৭০ কিলোমিটার পথ গাড়িতে করে তিনি রাজধানী হ্যানয়ে যান।

ডং ডাং স্টেশনে নামার পরপর কিমকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় কিম হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তার লিমুজিন গাড়িতে উঠে চলে যান। কিমের  সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তার বোন কিম ইয়ো জং এবং প্রাক্তন জেনারেল কিম ইয়ং চোল।

আজ সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ট্রাম্প ও কিম একান্তে বৈঠক করবেন এবং এরপর তাঁরা নিজেদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে নৈশভোজে অংশ নিবেন। বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে মূল বৈঠক হবে। এর আগে গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন ট্রাম্প ও কিম। আট মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে দুই নেতা দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসছেন। অথচ এক বছর আগেও তাঁদের বৈঠকের বিষয়টি ছিল অকল্পনীয়।

ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে চলছিল তর্কযুদ্ধ, কাদা-ছোড়াছুড়ি, পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকি। কিন্তু নজিরবিহীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন।

বিশ্বের সবার নজর এখন তাদের এই দ্বিতীয় বৈঠকের ওপর। কোরীয় দ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রিকরণের বিষয়ে কোন উন্নতি ঘটে কি না সে বিষয়ে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন সবাই।

সিঙ্গাপুরের বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্য কমাতে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সেতু তৈরির চেষ্টা করা হয়। তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ অগ্রগতির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি এখনো। যদিও উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেনি। দুই নেতার দ্বিতীয় দফা বৈঠকেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য