কবিতা : আমাদের মুক্তিদুত

আমাদের মুক্তিদুত

আমাদের মুক্তিদুত

আমাদের মুক্তিদুত

দেলওয়ার হোসেন

সবুজ অরণ্য এবং নক্ষত্রের আকাশ ছিল এখানে,-তবুও
দীর্ঘকাল নিভেছিল নগরীর সকল বাতিঘর ।
আজ নক্ষত্রের সব আলো সমবেত হয়ে যোগ দেবে 
আলোর মিছিলে । নেতার উদ্যত আহ্বানে
কোরাসের সুরে গাইবে জয়গান ,
জেগে উঠবে শায়িত পিতার বিমর্ষ প্রাণ ।
আমরা দেখবো – আলোয় দীপ্তিমান মৃত্যুঞ্জয়ী তার
অমিয় মুখখানি উল্লাসে অম্লান,
যাকে মেনে নিতে হয়েছে গ্রীক দেবতার মত
দুর্লঙ্ঘ নিয়তি ।
যার প্রতিটি শব্দধ্বনী হয়ে যেত - 
প্রতিবাদী একটি অমর কবিতা ,
আর চেতনায় প্রবাহিত হতো অন্তহীন
সমুদ্রের শাশ্বত জোয়ার ।
শুধু তার অমর কবিতার পংক্তি হয়ে
ঝড়ে পড়তো কত না গুচ্ছ রক্ত পলাশ
রাজপথে অকালে হাসিমুখে ।
ঝড়ে গেছে না হয় আমাদের অনামিকা হতে
মুল্যবান কত শ্বেত-প্রবালের দিন-
তবুও সীমাহীন হতাশার মত গাঢ় অন্ধকার ভেদী
ভোরের সূর্য করেছে আমাদের সব দুঃখ বিলীন ।
তাই এ বাংলা জুড়ে বুকের মানচিত্রে আঁকা জনকের ছবি ,
এই তো সেদিন – আজকের এই দিনে
তার বজ্র নিনাদের হুকুম মেনে আমরা গিয়েছিলাম দুঃসহ আঁধার ভেদী
রণ অভিযানে একটি পতাকা ছিনিয়ে নেবার মৃত্যুঞ্জয়ী দ্রোহে
আজ আমাদের বুকের ভুখন্ডে রক্তাক্ত মানচিত্র
করতলে লাল-সবুজের পতাকা, যা ছিল তোমারই আঁকা
তোমার এ কীর্তিমান ছবি বিবর্ণ হবে না কোন কালেও -
মহা দুর্যোগে প্রকৃতি তার রং হারালেও ।

স্টকহোল্ম, ২০১৯,০৩,২৫

পাঠকের মন্তব্য