সময়মতো আমি আবারও কাজে ফিরবো :  শাবনূর

সময়মতো আমি আবারও কাজে ফিরবো :  শাবনূর

সময়মতো আমি আবারও কাজে ফিরবো :  শাবনূর

মঙ্গলবার রাতের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে দেশে এসেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। সঙ্গে এসেছে তার একমাত্র সন্তান আইজান। শুক্রবার মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন এ নায়িকা। আলাপনের শুরুতে তিনি বলেন, দেশে  এবারো বেশি দিন থাকা হবে না আমার। অল্প সময়ের জন্য এসেছি। আমার ছেলে আইজানও এসেছে। ছেলের খবর জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও দ্রুত বড় হচ্ছে মাশাল্লাহ। ছয় বছর বয়স এখন আইজানের।

একটা বছর গেলে  আর চিন্তা নেই আমার। কেমন কাটছে বিদেশের দিনকাল? শাবনূর বলেন, যখন বিদেশে থাকি দেশের মানুষের কথা, ভক্তদের কথা খুব মনে পড়ে। তাই অস্ট্রেলিয়ায় বেশিদিন থাকতে ইচ্ছে করে না। প্রায়ই প্রতি বছর  সিডনি টু ঢাকা, আবার ঢাকা টু সিডনি দৌঁড়ঝাপ করতে দেখা যায় এই তারকাকে। এবার দেশে ফিরে পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে শাবনূর বলেন, আমি জীবনে কখনো কোনো কাজে পরিকল্পনা করিনি। এবারো দেশে এসে কি করবো না করবো সেসব নিয়ে কোনো  পরিকল্পনা নেই। তবে ইচ্ছে আছে সবার সঙ্গে দেখা করবো। সবার খোঁজ খবর নিবো। এছাড়া ৮ই ডিসেম্বর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান  অনুষ্ঠানেও যেতে পরি। আর ১৭ই ডিসেম্বর তো আপনার জন্মদিন। এই দিনে বিশেষ কোনো আয়োজন আছে কি ? জবাবে শাবনূর বলেন, এবার ঢাকাতেই জন্মদিনটা পালন করার ইচ্ছে রয়েছে। আর তাছাড়া সবার সঙ্গে দেখা করে আড্ডা দিতে দিতে সময় কেটে যাবে। বিশেষ কোনো আয়োজন আসলে নেই। আমি খুবই সাধারণভাবে চলাফেরা করতে পছন্দ করি। 

মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘এত প্রেম এত মায়া’ ছবিতে গান গেয়েছেন শাবনূর। কিন্তু অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে যে, তিনি ছবির কাজেও ফিরবেন। তবে কবে ? এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, আমি চাইলেই হঠাৎ করে কাজ শুরু করতে পারি। তবে ফিট হয়ে দর্শকদের সামনে ফিরতে চাই। আর ফিট হতে তো সময় লাগবে। কারণ চাইলেই তো হঠাৎ করে ওজন কমানো বা শুকানো সম্ভব না। তবে হ্যাঁ কাজ করার ইচ্ছে আমার আছে। সময়মতো আমি কাজে ফিরবো। শাবনূর আরো বলেন, অভিনয়ের বাইরে পরিচালনা নিয়েও ভেবেছি। অল্প সময় নিয়ে এসে সব কাজ তো করা সম্ভব না। এ বছর তো দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এলো। আমি যখন কাজে ফিরবো তখন লম্বা সময় নিয়ে দেশে আসতে চাই। শাবনূর আরো বলেন, সবকিছুর জন্য সঠিক সময় প্রয়োজন। এখন তো দর্শক সিনেপ্লেক্সে বেশি ভিড় করছে। ভালো মানের সিনেমাও নির্মাণ হচ্ছে। নতুন অনেক অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে। আমার মনে হয় দু-তিন বছরে অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে। তখন ভালো অবস্থানে যাবে আমাদের ঢাকাই চলচ্চিত্র। আমি চাই ইন্ডাস্ট্রি আবারো চাঙ্গা হোক। আগের মতো সব শুটিং ফ্লোরে আলো জ্বলতে থাকুক। একটা সময় রাত-দিন শুটিং করেছেন শাবনূর। উপহার দিয়েছেন সুপারহিট সব সিনেমা। এসব দিনের কথা এখনো মনে পড়ে বলেও জানালেন এ অভিনেত্রী। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুন্দর গল্পের সিনেমা নির্মাণ শুধু নয়, এক সময় রীতিমত প্রতিযোগিতা চলতো। এক সপ্তাহে দুই ছবিই সুপারহিট হয়েছে। এমন খবর প্রায়ই শুনতে পেতাম আমরা। তাই অনেক সময় ভালো ছবির জন্য টেনশন কাজ করতো না। নির্মাতা, প্রযোজকরাও আস্থা পেত। একের পর এক হিট ছবি যখন একটা ইন্ডাস্ট্রি দেয় তখন সেই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সমালোচনা করার কিছু থাকে না। একটা সময় বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণ যেমন হতো, ঠিক মোটামুটি বাজেটের মধ্যেও ভালো সিনেমা তৈরি হতো। সবাই কাজ করতো। এই দিনগুলো সব সময় মনে পড়ে আমার। আমি আসলে এখনো চিন্তিত না। আমার বিশ্বাস, এখনো অনেক গুণী নির্মাতা আছে আমাদের। তরুণ মেধাবী নির্মাতা-শিল্পী-কলাকুশলীরা কাজ করছেন। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফিরবে।

পাঠকের মন্তব্য