কবিতা : 'কতকজন এখনো শাড়ি পড়ে' 

কবিতা : 'কতকজন এখনো শাড়ি পড়ে' 

কবিতা : 'কতকজন এখনো শাড়ি পড়ে' 

'কতকজন এখনো শাড়ি পড়ে' 

এফএ শাপলা

সংখ্যালঘু কতকজন এখনো শাড়ি পড়ে,
হাতে চুড়ি আর কপালের ছোট্ট টিপে
খোলা চুলে হেঁটে বেড়ায় এই শহরের বুকে।

শখের বশে মাঝেমধ্যে পায়ে আলতা দেয়,
হাতে মেহেদী লাগায়,
চোখে কাজল দেয়
পানসে লিপস্টিকে ঠোঁট রাঙায়।

আয়নার সামনে বসে লম্বা সময় নিয়ে সাঁজতে থাকে,
আবার খানিক বাদে লজ্জায়, সাঁজ নষ্টও করে ফেলে।
এরা নিজের জন্য সাঁজে,
নিজের জন্যই বাঁচে।

অবসরে বেলকনিতে বসে-
চেয়ারে লম্বা করে পা দুলিয়ে হাতে বই নিয়ে পড়ে,
পাশে থাকা চায়ের কাপে চুমুক দেয়,
নিজেদের ভাবনার জগতে বিচরণ করে বেড়ায়।
সুযোগ পেলে বৃষ্টিতে ভেজা ঘাসপাতার
কিংবা রোদে প্রজ্বলিত ফুলের ছবি তোলে।
অনেকে দু'চার লাইনের কাব্যিক ভাষায়,
কিছু একটা লিখে ছবির সাথে,
নীল-সাদার দুনিয়ায় সেগুলোর প্রতিচ্ছবি ভাসায়।
নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে হারিয়ে যায় ঐ আকাশটার মাঝে।

এরা এখনো-
চাঁদনী রাতে জানালার ফাঁকে জ্যোৎস্না দেখে,
ফুলের গন্ধে নিজের থেকে হারিয়ে যেতে চায়
কখনো’বা রন্ধন শিল্পে নিজের বানানো নতুন কিছু জাহির করে।
মনের সুখে গুনগুনিয়ে গান গায়,
নিজের একাকী দুনিয়ায় বিচরণ করে বেড়ায়।

দুঃখ পেলে লোকচক্ষুর আড়ালে চাপা কান্না করে।
মুচকি হাসির আড়ালে পাহাড়সম কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারে।
এরা বর্ণান্ধ নয়, প্রকৃতিপ্রেমী,
বড্ড বেশী অভিমানী।

আধুনিকতার চাকচিক্যের প্রতিযোগিতার মধ্যে
বেঁচে থাকতে মাঝে মাঝে এদের প্রচণ্ড কষ্ট হয়,
হয়তো তখন পালাতে ইচ্ছে করে,
সাদামাটা মেয়েগুলো তখন আরো বেশি অভিমানী হয়ে উঠে।
প্রায়শই মায়াবী চোখে দূরের পথে তাকিয়ে থাকে,
হয়ত কারো জন্য অপেক্ষা করে,
নাকি করে না, জানা নেই......

পাঠকের মন্তব্য